বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ, কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের
ওয়াশিংটন ডিসিতে টানা তিন দিন আলোচনার পরও কাঙ্ক্ষিত বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। এর জেরে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর যত পণ্য পাঠায়, তার মধ্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা) মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। খবর আল জাজিরার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা স্থানীয় সময় শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হওয়ার পর দুই দেশের কর্মকর্তারাই জানান- কোনো সমঝোতা হয়নি।
নতুন এই শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া কানাডার ইলেকট্রনিক্স, শিল্প যন্ত্রপাতি ও দুগ্ধজাত পণ্যসহ মোট রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। এর আগে থেকে কাঠ, ইস্পাত ও অটোমোবাইল খাতেও মার্কিন শুল্ক বহাল রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, তাঁর দেশও সমপরিমাণ অর্থাৎ ‘প্রতি ডলারে ডলার’ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। তিনি জানান, মার্কিন শুল্কের প্রভাব থেকে দেশের শ্রমিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করতে দ্রুতই নতুন সহায়তা পদক্ষেপের ঘোষণা দেবে অটোয়া।
এদিকে চুক্তি না হওয়ার জন্য কানাডাকে দায়ী করেছেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। তিনি বলেন, কানাডা শেষ মুহূর্তে তাদের নতুন দাবি ও পূর্ব প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসায় অর্জিত প্রাথমিক সমঝোতা নস্যাৎ হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া করল কানাডা।
গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর কানাডীয় আমদানির ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ শুরু করলে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা দেখা দেয়।
মার্কিন পণ্যের প্রতি কানাডা বৈষম্যমূলক আচরণ করছে- এমন অভিযোগে জুলাই মাসে নতুন শুল্কের ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ শতাংশ শুল্কের কারণে কানাডার শত শত পণ্য মার্কিন বাজার থেকে কার্যত ছিটকে পড়বে, যা দেশটির ব্যবসায়িক খাতে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক