উচ্চমাত্রায় অ্যাসপিরিন নিচ্ছেন ট্রাম্প, কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এই অভ্যাস?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি তাঁর হৃদপিণ্ডে ‘সুন্দর ও পাতলা’ রক্ত প্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রতিদিন উচ্চমাত্রার অ্যাসপিরিন গ্রহণ করেন। চিকিৎসকদের নির্ধারিত ডোজের চেয়ে বেশি মাত্রায় এই ওষুধ সেবন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কেন বেশি অ্যাসপিরিন নিচ্ছেন ট্রাম্প?
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি গত ২৫ বছর ধরে উচ্চমাত্রার অ্যাসপিরিন গ্রহণ করে আসছেন। তাঁর মতে, অ্যাসপিরিন রক্ত পাতলা রাখার জন্য ভালো। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই না আমার হৃৎপিণ্ড দিয়ে ঘন রক্ত প্রবাহিত হোক। আমি চাই সুন্দর, পাতলা রক্ত প্রবাহিত হোক।’
প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক শন বারবাবেলা জানিয়েছেন, ট্রাম্প হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতিদিন ৩২৫ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিন গ্রহণ করেন, যা এই উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ মাত্রা হিসেবে বিবেচিত। চিকিৎসকরা তাঁকে ডোজ কমানোর পরামর্শ দিলেও ট্রাম্প তাঁর পুরনো অভ্যাসেই অনড় রয়েছেন।
সম্প্রতি ট্রাম্পের হাতে কালচে ক্ষতের দাগ দেখা দেওয়ায় তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, ঘনঘন হ্যান্ডশেক ও নিয়মিত অ্যাসপিরিন ব্যবহারের ফলে ট্রাম্পের টিস্যুতে সামান্য জ্বালাপোড়া ও এই ধরনের ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পের ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি’ নামক একটি সমস্যা রয়েছে, যা তাঁর রক্ত প্রবাহকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করে।
চিকিৎসা বিজ্ঞান কী বলে?
সাধারণত ব্যথা, জ্বর বা প্রদাহ কমাতে ৩০০ মিলিগ্রামের অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট ব্যবহৃত হয়। তবে হৃদরোগ বা স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত ৮১ মিলিগ্রামের একটি ছোট ডোজ নিয়মিত সেবনের পরামর্শ দেন।
মার্কিন প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস টাস্ক ফোর্স জানায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাসপিরিন ব্যবহারের সুবিধা কমে যায় ও অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে ৭৫ বছর বয়সের পর অ্যাসপিরিন ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
দীর্ঘ সময় ধরে বা উচ্চ মাত্রায় অ্যাসপিরিন গ্রহণ করলে পাকস্থলী বা অন্ত্রে আলসার হতে পারে। এছাড়া হালকা বদহজম থেকে শুরু করে কাশির সঙ্গে রক্ত আসার মতো গুরুতর সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
অ্যাসপিরিন বিষক্রিয়ার আশঙ্কা
ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্টদের মতে, শরীরের সহ্যক্ষমতার চেয়ে বেশি অ্যাসপিরিন গ্রহণ করলে ‘অ্যাসপিরিন টক্সিসিটি’ বা বিষক্রিয়া হতে পারে। এর লক্ষণগুলো হলো- কানে অনবরত বাজনা বা শব্দ হওয়া। পেটে তীব্র ব্যথা, বমি ও তন্দ্রাচ্ছন্নতা। মারাত্মক ক্ষেত্রে এটি রক্তকে অ্যাসিডিক করে তুলতে পারে, যা ফুসফুসে পানি জমা হওয়া এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার কারণ হতে পারে।
৭৯ বছর বয়সে ট্রাম্পের এই অভ্যাসটি চিকিৎসকদের মতে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হতে পারে, কারণ এটি তাঁর কিডনি ও লিভারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দ্বিতীয় বয়স্কতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ট্রাম্পের এই স্বাস্থ্য সচেতনতা কি সত্যিই ফলদায়ক, নাকি উল্টো বিপদের কারণ— তা নিয়ে বিতর্ক চলছেই।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক