ইরানের সরকার পতনের ঝুঁকিতে নেই : মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট
টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও ইরানের সরকার এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে দেশটির বর্তমান নেতৃত্বের পতনের কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ করেছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মূল তথ্য
একটি গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইরানজুড়ে অসংখ্য হামলা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করার পরেও দেশটির সরকার জনগণের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। গোয়েন্দা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের শাসনকাঠামো বা ‘পাওয়ার ভার্টিক্যাল’ অত্যন্ত সুসংহত এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি ভেঙে পড়ার কোনো লক্ষণ নেই। গত কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়া এই রিপোর্টটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রুত শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করা বেশ কঠিন হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্য আকাশছোঁয়া হয়ে যাওয়ায় এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সামরিক অভিযান ‘খুব দ্রুত’ শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানে হামলার মতো আর কোনো বড় লক্ষ্যবস্তু ‘ব্যবহারিকভাবে’ অবশিষ্ট নেই। তাই এই যুদ্ধ আর দীর্ঘায়িত করার প্রয়োজন নাও থাকতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কট্টরপন্থী নেতারা যদি ক্ষমতায় আসীন থাকেন, তবে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের জন্য এই যুদ্ধের একটি সম্মানজনক সমাপ্তি খুঁজে পাওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে।
নেতৃত্বের সংহতি ও মোজতবা খামেনি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়া সত্ত্বেও ইরানের ধর্মীয় ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে কোনো ধরনের ফাটল ধরেনি। আইআরজিসি ও অন্তর্বর্তীকালীন নেতারা কঠোর হাতে দেশের পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। এরই মধ্যে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যাকে সামরিক বাহিনীর কট্টরপন্থী অংশটি পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে স্বীকার করেছেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে বর্তমান ইরানি সরকারের পতন ঘটবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
কুর্দি বিদ্রোহীদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
এদিকে ইরাক সীমান্ত সংলগ্ন ইরানি কুর্দি মিলিশিয়ারা সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা চেয়েছিল। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র বা লোকবল এই কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর নেই। ফলে তাদের মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের কোনো গণ-অভ্যুত্থান ঘটানো সম্ভব হবে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক