যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছি : বাণিজ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো এখনও বিকাশমান বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি এ চুক্তির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।
আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে। এর জবাবে তিনি নতুন করে বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। এই শুল্ক এবং দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সই করা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে পরবর্তী করণীয় কী হবে, তা নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ বিষয়টি আসলে এখনও বিকাশমান, যেটাকে আমরা ইংলিশে বলি, ইভলভিং সিনারিও। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত আগের ধার্যকৃত ট্যারিফ মেইনটেবল না বলে ঘোষণা করেছে। এরপর তারা সব দেশের জন্য প্রথমে ১০ শতাংশ, পরে ১৫ শতাংশ ট্যারিফ ঘোষণা করেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুধু ঘোষণা শুনছি, কিন্তু সরকারি পর্যায়ে লিখিত কিছু পাইনি। আর যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশের আইন অনুযায়ী ১২২ আইনি ব্যাখায় যা আছে, সেটা ১৫০ দিনের মধ্যে তাদের ইউএস কংগ্রেসে অনুমোদিত হতে হবে। আর বাদ বাকি যা, টিভিতে আমরা দেখছি। সরকারি কোনো কাগজপত্র আসেনি। ফলে সিনারিওটা ইভলভিং।
মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিগত সরকার কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, সেটির ব্যাপারেও এখনও বলার মতো কোনো অবস্থা তৈরি হয়নি। আমরা দেখছি, এর পক্ষে-বিপক্ষে কী আছে। একটি চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে দুটি দিকই থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখছি। এরপর করণীয় ঠিক করব।
‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়গুলো গোপন ও সেটা তড়িঘড়ি করে করেছে কিনা’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কিছু নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট ছিল, সেটা চুক্তির আলোচনার সময়। তবে এ চুক্তিটা একটি সেনসিটিভ ইস্যু ছিল। যাদের সঙ্গে চুক্তি, দেশটাও আমাদের জন্য অনেক সেনসেটিভ। বিভিন্ন কারণেই এই বিকাশমান পরিস্থিতিতে কোনো অনাকাঙ্খিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
এদিকে, শুল্ক ও চুক্তি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মন্তব্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ডেকেছি, চুক্তিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন সেক্টরের কী সমস্যা, সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বর্তমান দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যেসব পণ্য আমদানি তদারকি করে, সেসব পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে বাজারে। তবে কিছু পণ্য একসঙ্গে অনেকে কেনার কারণে দাম বেড়ে গেছে, সেগুলো সবজি জাতীয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, রমজানের শুরুতে অনেকে একসঙ্গে এক মাসের বাজার করেন। বিক্রেতারাও পরিস্থিতির সুযোগ নেয়। ৪০ থেকে ৫০ টাকার লেবু ১২০ টাকা হয়ে গেছে। এরপর ঠিকই আবারও আগের দামে ফিরে এসেছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)