আলুর বাম্পার ফলনেও কৃষকের চোখে পানি
উত্তরের জনপদ নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন আলু তোলার ব্যস্ততা, হাট-বাজারে সারি সারি লাল-সাদা আলুর স্তূপ। কিন্তু এই প্রাচুর্যই এখন কৃষকের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চড়া দামে সার, বিষ ও শ্রমিকের মজুরি দিয়ে আবাদ করা আলু এখন বিক্রি হচ্ছে অনেকটা ‘এক কাপ চায়ের দামে’। ন্যায্যমূল্য না পেয়ে উপজেলার হাজারো চাষির চোখে এখন শুধুই হতাশা।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বদলগাছী হাটখোলা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আলুর স্তূপ নিয়ে বসে আছেন চাষিরা, কিন্তু ক্রেতা বা পাইকারদের আগ্রহ খুবই কম। বাজারে বর্তমানে সাদা পাটনাই আলু ২৫০-২৮০ টাকা মণ, ফাটা পাপড়ি ৪০০-৪৫০ টাকা এবং কার্ডিনাল আলু ২৫০-৩০০ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি কেজি আলুর দাম পড়ছে মাত্র ৫ থেকে ৮ টাকা, যা অনেক ক্ষেত্রে এক কাপ চায়ের মূল্যের চেয়েও কম।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এবার আলুর ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু উৎপাদন বাড়লেও বাজারে এর প্রতিফলন উল্টো।
মাঠে কর্মরত ও বাজারে আসা কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষে খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এর ওপর রয়েছে তোলা, বাছাই ও পরিবহণ খরচ। দেউলিয়া গ্রামের কৃষক হাসান বলেন, ৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। যে দাম শুনছি, তাতে মাঠ থেকে আলু তুলতেই মন চাইছে না। আগামী বছর আর আলু চাষ করব না।
আরেক কৃষক আজাদুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, আলু চাষ করে বড় পাপ করেছি। বাজারের যে অবস্থা, তাতে আমরা কৃষকরা এখন নিঃস্ব।
কৃষকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত হিমাগার সুবিধা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে কম দামে আলু বিক্রি করছেন। এছাড়া গত বছরের মজুদ আলু এখনও বাজারে থাকায় নতুন আলুর চাহিদা ও দাম তলানিতে ঠেকেছে।
স্থানীয় বাজার বণিক সমিতির সভাপতি এখলাছুর রহমান জানান, বাজারে সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। তবে মাঠ পর্যায়ে দাম কম থাকলেও শহরের খুচরা বাজারে এর প্রভাব নেই, ফলে কেবল মধ্যস্বত্বভোগীরাই লাভবান হচ্ছে।
বদলগাছী উপজেলা কৃষি অফিসার সাবাব ফারহান বলেন, চলতি মৌসুমে আলুর উৎপাদন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। আমরা বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং কৃষকদের আলু সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করাসহ বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

আসাদুর রহমান জয়, নওগাঁ