পাহাড়জুড়ে আমের মুকুলের সমারোহ, বাম্পার ফলনের স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা
বান্দরবানের পাহাড়ের বুকে গাছে গাছে এখন শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন জাতের আমের মুকুল। বাতাসে মুকুলের মিষ্টি মৌ-মৌ গন্ধে বিমোহিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা। বসন্তের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে আমের মুকুল মধুমাসের আগাম বার্তা জানান দিচ্ছে। বাগানগুলোতে মুকুল রক্ষা ও পোকা দমনে কীটনাশক ছিটানোসহ পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পাহাড়ের আম চাষিরা।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বান্দরবান জেলার রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি এবং সদর উপজেলাসহ সাতটি উপজেলায় এ বছর প্রায় ১০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমারের জাত হিসেবে পরিচিত ‘রাংগোয়াই’ আমের চাষ সবচেয়ে বেশি। এবার জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি।
সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই পাহাড়ে আমের মুকুল আসা শুরু হয়। তবে রাংগোয়াইসহ কিছু আগাম জাতের গাছে এরই মধ্যে আমের গুটিও দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বিগত বছরের তুলনায় ভালো ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চিম্বুক পাহাড়ের বসন্ত পাড়ার আম চাষী তৈয়াং ম্রো ও ইয়াংরিং ম্রো বলেন, ‘আমাদের বাগানের প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। কোনো কোনো ডালে মুকুল সবে বের হচ্ছে। মুকুল আসার পর থেকেই আমরা নিয়মিত পরিচর্যা শুরু করেছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী রোগ-বালাই থেকে মুকুল রক্ষায় ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। আবহাওয়া এমন থাকলে এবার ইনশাআল্লাহ বাম্পার ফলন হবে।’
এ বিষয়ে বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘পাহাড়ের বাগানগুলোতে এখন আমের মুকুলের সমারোহ। এই সময়ে মুকুলকে ছত্রাকের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা জরুরি। মুকুল ঝরে পড়া রোধে এবং ভালো ফলন নিশ্চিতে আমরা চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। বর্তমান আবহাওয়া আমের ফলনের জন্য বেশ অনুকূল।’

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান