সজিনা ফুলেই মধুর সাফল্য : বাণিজ্যিক উৎপাদনে তাক লাগালেন ৪ মৌখামারি
দিনাজপুরের শান্ত পল্লীতে এক নতুন সম্ভাবনার মধুরঙা সকাল উঁকি দিচ্ছে। জেলার সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামে হর্টিকালচার সেন্টারের পাশের সজিনা বাগানে এখন মৌমাছির গুঞ্জনের সঙ্গে মিশে আছে চার তরুণ উদ্যোক্তার সাফল্যের হাসি। দিনাজপুরে প্রথমবারের মতো সজিনা ফুল থেকে বাণিজ্যিকভাবে মধু উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তারা।
এতদিন দিনাজপুরে মূলত লিচু, সরিষা, ধনিয়া বা কালোজিরা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা হতো। সজিনা ফুল ছিল অবহেলিত। সেই অবহেলিত ফুলকেই এবার আয়ের উৎসে পরিণত করেছেন খানসামা উপজেলার মৌখামারি হিরা লাল রায় এবং তার তিন সহযোগী—রিফাত ইসলাম, আরিফ ও সাগর।
পরীক্ষামূলক উদ্যোগ থেকে বাণিজ্যিক জয়
গল্পের শুরুটা ছিল গত বছর। খামারবাড়ি এলাকায় পরীক্ষামূলক উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও দমে যাননি হিরা লাল রায়। সদরপুর গ্রামে ৭৫টি মৌবক্স স্থাপন করে শুরু করেন নতুন লড়াই। মাত্র ২২ দিনের মাথায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। প্রথম হারভেস্টেই তারা সংগ্রহ করেন ১৫০ কেজি মধু, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। প্রতি কেজি মধু প্রায় এক হাজার টাকা দরে বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তারা।
মৌখামারি হিরা লাল রায় বলেন, ‘সব খরচ বাদ দিয়ে এবার লক্ষাধিক টাকা লাভ হবে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সজিনা বাগান থেকে মধু সংগ্রহের পরিকল্পনা আছে আমাদের।’ তার সহযোগী রিফাত ইসলাম জানান, দিনাজপুরে এবারই প্রথম সজিনা ফুলের মধুর বাণিজ্যিক উৎপাদন সফল হয়েছে, যা অন্য খামারিদের জন্য নতুন দুয়ার খুলে দেবে।
গুণগত মান ও সম্ভাবনা
দিনাজপুর বিসিক মৌমাছি পালনকেন্দ্রের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রুহুল আমিন এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও খামারিকে এই কাজে উৎসাহিত করা হবে। মধুর গুণগত মান নিয়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের গবেষক আজমাইন ফাহি বলেন, ‘গ্রেডের দিক থেকে সজিনা ফুলের মধু অত্যন্ত উন্নত মানের এবং স্বাস্থ্যসম্মত।’
জেলায় সজিনার ব্যাপক ফলন থাকলেও এতদিন এর ফুল মধু উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়নি। চার তরুণের এই হাত ধরে দিনাজপুরের কৃষি ও মৌখামারিতে যোগ হলো এক নতুন এবং মধুময় অধ্যায়।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)