৮ বছর ধরে অন্ধকারে ‘নালুকাবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প’
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় যমুনা নদীর চরে নির্মিত ‘নালুকাবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প’ যেন এক বিস্মৃত জনপদ। ২০১৮ সালে নির্মিত ৪৮টি ঘরের এই প্রকল্পে বর্তমানে প্রায় ৩০টি পরিবার বসবাস করছে। তবে দীর্ঘ আট বছরেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি বিদ্যুতের আলো, মেলেনি মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে পাওয়া ঘরের কোনো নথিপত্র বা দলিল।
দিনের আলো ফুরোলেই পুরো প্রকল্প এলাকায় নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। জরাজীর্ণ ঘরগুলোতে শিশুদের কান্না আর বন্য প্রাণীর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে বাসিন্দাদের। প্রকল্পের বাসিন্দা হাফিজুল আক্ষেপ করে বলেন, আট বছর আগে এখানে ঠাঁই পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা যেন মৃত্যুপুরী হয়ে যায়। ভয় আর আতঙ্কে চোখে ঘুম আসে না।
বাসিন্দা বাচ্চু জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় কুপির আলোই এখানকার ভরসা। বছর দেড়েক আগে কুপির আগুন থেকে লাগা অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা যান আলেফ উদ্দিনসহ তার চারটি গবাদি পশু। যদি বিদ্যুৎ থাকত, তবে হয়তো এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দেখতে হতো না।
এদিকে আশ্রয়ণের পশ্চিম পাশে ছোট যমুনা নদীর চর থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এর ফলে নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে প্রকল্পটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে আলো নেই, অন্যদিকে ভিটেমাটি হারানোর ভয়। আমরা এখন কোথায় যাব?
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম জানান, শীতবস্ত্র বিতরণে গিয়ে তিনি এই মানবেতর অবস্থার কথা জানতে পেরেছেন।
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, আগে কেন দলিল দেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দলিল না থাকলে বিদ্যুৎ বিভাগ সংযোগ দিতে চায় না। আমরা দ্রুত দলিল প্রদান ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেব। এ ছাড়া যারা অবৈধভাবে মাটি কাটছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিঠু হাসান, নওগাঁ (বদলগাছী-মহাদেবপুর)