মাদক কারবারিদের হামলায় শ্রমিক মৃত্যুর অভিযোগ
গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় মাদক কারবারিদের মারধরে আহত এক নির্মাণ শ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে তার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়।
নিহত শ্রমিক হলেন আকরাম হোসেন (৪৫)। তিনি শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমী গ্রামের ঢুলিপাড়া এলাকার প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে মাদককারবারীরা আকরাম হোসেনকে লোহার রড দিয়ে বেধরক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে শ্রীপুর, পরে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার বিকেলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা হলেন—উপজেলার বরমি ইউনিয়নের বরমি গ্রামের ঢুলিপাড়া এলাকার মার্জিনা আক্তার (৩২), শুভ (২০), মাহাবুল ইসলাম (৩০), মাসুম (৩৮), কাদির (২০) ও স্বপ্না আক্তার (৩০)। ঘটনার পর থেকে তারা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
স্থানীয় শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তার বাড়ির পাশ দিয়ে রাত-দিন মাদক কারবারিরা মার্জিনার বাড়িতে চলাচল করে। বাড়িতে থাকা নারীদের অনেক সময় উত্ত্যক্ত করে থাকে।
থানায় করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহিদুল ইসলাম তার বাড়ির পাশ দিয়ে চলাচলের রাস্তা কাটা দিয়ে বন্ধ করে দেন। এতে মাদক কারবারিরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে তাকে, পরে তার স্ত্রী ও দুই পুত্রবধূ ও আকরামের স্ত্রীকে মারধর করে। বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মাদক কারবারিরা তিন দফা হামলা চালায়। বিকেলে আকরাম হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে তার স্ত্রীকে মারধরের প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আকরাম হোসেনকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। স্বজনরা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে, শ্রীপুর পরে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। স্বজনরা তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
নিহত আকরামের মেয়ে নাজমিন আক্তার বলেন, আমার বাবাকে তিন দফা পিটানো হয়েছে। মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় তাকে মেরে ফেলল।
নাজমিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, প্রথম দফায় হামলার ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা চাই, কিন্তু পুলিশ আসেনি। তৃতীয় দফায় যখন তারা মারধর করে, তখন পুলিশ আসে। বাবা এই অঞ্চলের মধ্যে খুবই সহজসরল মানুষ ছিলেন। অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতেন না। এজন্য তাদেরকে মাদক বিক্রি করতে নিষেধ করছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মাদক কারবারিরা প্রকাশ্যে বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করল। আমাদের এখন কে দেখবে। আমরা হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, মারধরের ঘটনায় তাৎক্ষণিক একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মৃত্যুর পর সেটি হত্যা মামলা হিসেবে রুজু হয়েছে। পুলিশ সহযোগিতা করেনি এটি সঠিক নয়। ঘটনার পরপরই জড়িতরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

আব্দুর রউফ, গাজীপুর (শ্রীপুর)