সুজনের জেলা সহ-সভাপতির মরদেহ উদ্ধার
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) গাজীপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান মোল্লাকে (৬৫) হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মহানগরীর সদর থানার ধীরাশ্রম এলাকায় সড়কের পাশ থেকে গলায় রশি পেঁচানো এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত কামরুজ্জামান মোল্লা গাজীপুর মহানগরের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপুরা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুজন গাজীপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
নিহত কামরুজ্জামান মোল্লার পরিবার ও পুলিশ জানায়, বুধবার (৪ মার্চ) সকালে একটি মামলা সংক্রান্ত কাজে নিজ বাসা থেকে গাজীপুর আদালতে যান তিনি। নির্ধারিত বিচারক উপস্থিত না থাকায় তিনি আইনজীবীর চেম্বার থেকে বের হয়ে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন। রাত গভীর হলেও বাসায় না ফেরায় স্বজনরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এদিকে রাত ২টার দিকে নগরীর পূর্ব ধীরাশ্রম এলাকায় সড়কের পাশে এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি কামরুজ্জামান মোল্লার বলে শনাক্ত করেন।
নিহত কামরুজ্জামান মোল্লার ছোট ভাই কবিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের জানামতে কারো সঙ্গে ভাইয়ের কোনো ধরনের বিবাদ ছিল না। তবে ব্যবসায়িক লেনদেনের কোনো বিষয় থেকে শত্রুতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
সুজন গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার শিশির বলেন, কামরুজ্জামান মোল্লা সংগঠনের একজন দায়িত্বশীল ও সক্রিয় নেতা ছিলেন। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
জিএমপির সদর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বুধবার রাত ১১টার আগের কোনো এক সময়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর দুর্বৃত্তরা মরদেহটি ধীরাশ্রম এলাকার সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তার ছেলে কৌশিক জামান বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

নাসির আহমেদ, গাজীপুর