‘নিরাপদ ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার’
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশকে নিরাপদ, আধুনিক ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে।
আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা পরিকল্পনার আলোকে ভবিষ্যৎ উপযোগী বাংলাদেশ গড়তে কাজ শুরু করেছেন।
হাবিবুর রশিদ আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য এমন একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে এবং নিজেদেরকে এই দেশের প্রকৃত মালিক মনে করবে। মানুষের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতেও কাজ করছে সরকার।
সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী সব মন্ত্রণালয়কে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৮০ দিনের বা ছয় মাসের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সড়ক পরিবহন ও রেলপথ খাতেও বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
হাবিবুর রশিদ বলেন, সড়ক পরিবহন খাতে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দুর্ঘটনামুক্ত নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা। সড়কখাতে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে পরিবহন ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মানুষের জন্য সহজলভ্য করা হবে। একই সঙ্গে সড়ক, রেল ও নৌপথ—এই তিন ধরনের পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেখানে সড়কপথে যাতায়াত সহজ সেখানে সড়ককে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে; যেখানে রেলপথে যাতায়াত দ্রুত ও সুবিধাজনক সেখানে রেলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং আর যেখানে বিকল্প নেই সেখানে নৌপথকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ ও কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
ঢাকার বাসস্টেশনগুলোকে আরও আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রয়োজনে কিছু বাসস্টেশন বিকল্প স্থানে স্থানান্তরের বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। এছাড়া বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বাস কোম্পানির মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং ছোট-বড় পরিবহন ব্যবস্থাকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার কাজ চলছে। পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত যানবাহনসহ অন্যান্য ছোট যানবাহনকেও আইনের আওতায় এনে নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে মহাসড়ক ও প্রধান সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং দুর্ঘটনা কমানো যায়।
বিআরটিসি বাস সেবা পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিআরটিসিকে জনপ্রিয় করতে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নারীদের বিআরটিসি বাসচালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে নারীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
আসন্ন ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশন, পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেছে। যাতে যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়ায় নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন এবং সড়কে যানজট কম থাকে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়কের নির্মাণকাজের জন্য পড়ে থাকা মালামাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া এবং ভাঙাচোরা সড়ক অস্থায়ীভাবে সংস্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ঈদের আগে রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদারকি করবেন।
গার্মেন্টস ছুটির কারণে ঈদযাত্রায় চাপ বাড়ার বিষয়েও সরকার সচেতন রয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা ধাপে ধাপে গার্মেন্টস ছুটি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হবে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)