দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় তিনজনের জামিন
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় ঢাকাগামী এসবি পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় আটক চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে জামিন দিয়েছেন আদালত। আজ শনিবার (৬ জুন) বিকেলে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক হায়দার আলী দুই হাজার টাকা বেইল বন্ডে তিন আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।
রাজবাড়ী কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. মমিনুল ইসলাম জামিনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে জানান, বিজ্ঞ আদালত আসামিদের প্রত্যেকের জন্য দুই হাজার টাকার বেইল বন্ড বা মুচলেকায় জামিনের এই আদেশ প্রদান করেছেন।
শুনানিতে আসামিপক্ষের নিয়োজিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহারিয়ার জামান রাজীব বলেন, মামলাটি সম্পূর্ণ জামিনযোগ্য হওয়ায় আদালতে প্রয়োজনীয় আইনি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়; যার প্রেক্ষিতে দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেছেন।
এর আগে গত গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এসবি পরিবহণের ওই দূরপাল্লার বাসটি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৫ নম্বর পন্টুন দিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি মুহূর্তের মধ্যে গভীর পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে যৌথ ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে সক্ষম হয়।
এই দুর্ঘটনার পর নৌ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুজার গিফারী বাদী হয়ে দৌলতদিয়া নৌ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত ওই মামলায় বেপরোয়া ও অবহেলাজনিতভাবে গাড়ি চালিয়ে মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং একই সাথে ফেরি ও যাত্রীদের মূল্যবান মালামালের ব্যাপক ক্ষতি সাধনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়; যেখানে ক্ষয়ক্ষতির আনুমানিক পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা।
দুর্ঘটনার দিনই পুলিশ বাসের চালক মো. ঝন্টু আলী, সুপারভাইজার মো. আজমল হোসেন ও হেলপার শাকিব হোসেনকে আটক করে। পরে আজ তাদের রাজবাড়ী আদালতে সোপর্দ করা হলে প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে আদালত তাঁদের জামিন দিয়ে দেন।

মো. কবির হোসেন, রাজবাড়ী