আশা করি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিবে বিএনপি : মাসুদ সাঈদী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের জবাবে পিরোজপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেছেন, সংসদে ৫০ ঘণ্টার আলোচনার যে বিষয়টি এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে সেখানে সকল সংসদ সদস্যরা যাতে নির্বিঘ্নে আলোচনা করতে পারে সে জন্য ৫০ ঘণ্টার কথা বিরোধীদলীনেতা উপস্থাপন করেছিলেন। কিন্তু এটিকেও খাটো করে দেখা হয়েছে। আমরা আশা করি গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিবে বিএনপি।
আজ রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ২টার দিকে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে মাসুদ সাঈদী এসব কথা বলেন।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভাষণ দিয়েছেন। আমাদের বিরোধীদলীয় বন্ধুরা সেই ভাষণ শুনতে চাননি, তারা সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেছেন। কিন্তু সেই ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য তারা ৫০ ঘণ্টা বরাদ্দ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। যদি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হয়, তবে সংখ্যানুপাতে সময় বরাদ্দ করা হবে।
মাসুদ সাঈদী বলেন, গণভোট যে রায় দিয়েছে বিএনপি যে রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে এ দেশের মানুষকে চরমভাবে হতাশ করেছে। আমরা আশা করি সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিএনপি জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এবং গণভোট ২০২৬ গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিবে।
দেশের ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ ভোট দিয়েছে জানিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, জুলাই সনদ ২০২৫ এর আদেশের ১১ তে বলা হয়েছে পরিষদের অধিবেশন, আহ্বান, কোরাম ইত্যাদি শিরোনামে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে ফল ঘোষিত হইবার ৩০ পঞ্জিকা দিবসে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হইবে অনুরূপ পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষধের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হইবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ এক মাস গত হতে যাচ্ছে কিন্তু এখন পর্যন্ত সংবিধান সংস্কারের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয় নাই। শুধু তাই নয় বিএনপি আজকের দিন পর্যন্ত সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করে নাই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অন্য এক বক্তব্যের জবাবে মাসুদ সাঈদী বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের যে আকাঙ্খা প্রকাশ হয়েছিল সেখানে বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল শুরুতেই সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ায় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি জুলাই সনদে বিশ্বাসি কিনা? গণঅভ্যুথানে, গণআকাঙ্খার প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিনা? জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করে নতুন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে কিনা, এসব প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
জুলাই আবেগ নয় কথা সত্যি, জুলাই আবেগ এবং একই সাথে বাস্তবতা। আবেগ বলে জুলাইকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করেন মাসুদ সাঈদী।
জুলাই আইন বা অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে বলেন, সংবিধানের ১৫২তে বলা হয়েছে, সকল অধ্যাদেশই আইন। সুতরাং তার বক্তব্যটি দায়িত্বশীল বক্তব্য হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক