নেশার টাকার জন্য নিজের সন্তানকে অপহরণ, স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি
সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার মো. আজিজুলের (২৮) স্ত্রী ভারতে কাজ করেন। আর দেশে বেকার হয়ে ঘুরে বেড়ান তার স্বামী। আজিজুল নেশাসহ বিভিন্ন কারণে স্ত্রীর কাছে প্রায় টাকা দাবি করতেন। সম্প্রতি স্ত্রী টাকার যোগান দিতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি রাগে নিজের ছেলেকে অপহরণ করে স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন। তবে জীবননগর থানা পুলিশ ও ডিবি (সিসিআইসি) অভিযান চালিয়ে তাকে সহযোগীসহ আটক করেছে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ জানান, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মো. আজিজুল এক সহযোগীর সঙ্গে মিলিত হয়ে নিজের ছেলেকে অপহরণ করে। পরে শিশুটিকে একটি নির্জন বাগানে নিয়ে বেঁধে রাখে। হাত বাঁধা অবস্থায় শিশুর গলায় ধারালো হাসুয়া ধরে তার সহযোগী মোবাইলফোনে একটি ছবি তোলে এবং সেটি শিশুর মায়ের কাছে পাঠায়। এসময় ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ না দিলে শিশুকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। শিশুর মা তখন দিশেহারা হয়ে বিকাশে ১০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠান।
ওসি সোলায়মান সেখ বলেন, অভিযোগ পেয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় জীবননগর থানা-পুলিশ ও ডিবি টিম দ্রুত অভিযানে নামে। তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জীবননগর থানার পাকা দাসপাড়া এলাকা থেকে শিশুর বাবা মো. আজিজুল ও তার সহযোগী মো. আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় সিয়ামকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অভিযানকালে বিকাশে পাঠানো ১০ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে ৭ হাজার টাকা এবং অপহরণে ব্যবহৃত ধারালো হাসুয়া উদ্ধার করা হয়।
ওসি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানতে পেরেছে যে, শিশুর মা ভারতে অবস্থান করছেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাবা ও সহযোগী শিশুটিকে জিম্মি করে তার গলায় অস্ত্র ধরে ছবি তুলে মায়ের কাছে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে মা তাদের ১০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠান। পরে আরও টাকা দেওয়ার জন্য তারা চাপ দিতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তারা পুলিশের শরণাপন্ন হন।
ওসি সোলায়মান সেখ আরও বলেন, বর্তমানে আটক দুজন থানা হেফাজতে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুলিশ এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখছে।

রিপন হোসেন, চুয়াডাঙ্গা (জীবননগর, দামুড়হুদা ও দর্শনা স্থলবন্দর)