যমুনা সেতু দিয়ে ৫১ হাজার যানবাহন পারাপার, টোল আদায় সাড়ে ৩ কোটি
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতু দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক যানবাহন পারাপার হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ১৭ মার্চ রাত ১২টা থেকে ১৮ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত সেতু দিয়ে মোট ৫১ হাজার ৫৮৪টি যানবাহন চলাচল করেছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ১১ হাজার ৯০০ টাকা।
ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপে সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। তবে যানবাহনের এই বিশাল চাপ সত্ত্বেও সিরাজগঞ্জের ৯০ কিলোমিটার মহাসড়কের কোথাও এখন পর্যন্ত যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারের ঈদযাত্রার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন, মহাসড়কে নেই সেই চিরচেনা দীর্ঘ যানজট। ফলে স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ।
মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া অনেক যাত্রী বাসের টিকিট না পেয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করেও গন্তব্যে ছুটছেন।
ঢাকা থেকে আসা ট্রাকযাত্রী মরিয়ম খাতুন জানান, বাসের সিট না পেয়ে ট্রাকে রওনা দিলেও রাস্তা তুলনামূলক পরিষ্কার থাকায় দ্রুত পৌঁছাতে পেরেছেন তিনি।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এবার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে তিনটি ভ্রাম্যমাণ ওয়ার্কশপ ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হয়েছে, যা বিকল হয়ে পড়া যানবাহন তাৎক্ষণিকভাবে বিনামূল্যে মেরামত করে দিচ্ছে। পাশাপাশি জরুরি তেল সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, মহাসড়কে যানবাহনের প্রচুর চাপ থাকলেও উত্তরের ঈদযাত্রা এখন পর্যন্ত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন। যানজটপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো আগেভাগেই চিহ্নিত করে জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ফলে মানুষ কোনো ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি ফিরতে পারছেন।

শরীফুল ইসলাম ইন্না, সিরাজগঞ্জ