কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিব হত্যার নেপথ্যের কারণ জানাল ডিএমপি
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় আলোচিত টিকটকার ও কলেজ শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশ জানায়, খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজিদের নির্দেশে এবং নারীঘটিত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেওয়া মূল হোতাসহ এ পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এসব তথ্য তুলে ধরেন।
ডিসি মাসুদ আলম বলেন, কুখ্যাত ‘বি কোম্পানি’র শীর্ষ সন্ত্রাসী সালাউদ্দিন ওরফে সাগর এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিল। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত অন্য চারজন হলেন—সিহাব, রাফিন, জয় ও সাগর ফকির। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিসি মাসুদ আলম আরও বলেন, ঘটনার তিন-চার দিন আগেই খুলনা থেকে ভাড়াটে খুনিরা ঢাকায় আসে। তারা রাজধানীর কয়েকটি হোটেলে বসে হত্যার চূড়ান্ত নীলনকশা তৈরি করে এবং কয়েকদিন ধরে রাকিবের গতিবিধি অনুসরণ করে।
হত্যার কারণ হিসেবে পুলিশ জানায়, নিহত রাকিব সাফা নামের এক বিবাহিত নারীকে পুনরায় বিয়ে করেছিলেন। এ ছাড়া খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজিদের স্ত্রী ও টিকটকার জান্নাত মুনের সঙ্গেও রাকিবের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এই ক্ষোভ থেকেই সাজিদ ঢাকা ও খুলনার অপরাধীদের সমন্বয় করে রাকিবকে হত্যার পরিকল্পনা সাজায়।
গত রোববার (১৫ মার্চ) রাত সোয়া ৯টার দিকে শহীদ মিনার এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন বোরহান উদ্দিন কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ। তখন তিন-চারজন সন্ত্রাসী এসে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে এবং মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত রাকিব পরিবারের সঙ্গে ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি ভোলা সদরের চৌমুহনী গ্রামে। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জড়িত অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক