ঈদে কুষ্ঠ রোগীদের মুখে হাসি ফোটালেন ডা. আফসানা আলমগীর
হাসপাতালে কুষ্ঠ রোগীদের আবদার পূরণ করে অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (লেপ্রসী) ডা. আফসানা আলমগীর খান। রাজধানীর মহাখালীস্থ কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) নিজ উদ্যোগে রোগীদের সেমাই ও ভেলপুরি খাইয়ে রোগীদের মুখে হাসি ফোটালেন তিনি।
ঈদের সকাল পেরিয়ে দুপুর। চারদিকে উৎসবের আমেজ, নতুন পোশাকের খসখসানি আর সুগন্ধি আতরের ঘ্রাণ। কিন্তু ঢাকার মহাখালীর কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের দেয়ালগুলোর ভেতরে পৃথিবীটা একটু অন্যরকম। সেখানে উৎসব মানেই দীর্ঘশ্বাস, আর আপনজন মানেই ফেলে যাওয়া স্মৃতি।
রোগীদের কাছে সরকারি সেবা পৌছে দেওয়ার যেমন দায়িত্ব আছে তেমনি মানবিক দায় থেকে কাজ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (লেপ্রসী) ডা. আফসানা আলমগীর খান। তাইতো ঈদের দিন বাসা থেকে রান্না করা সেমাইয়ের বাটি নিয়ে হাসপাতালের করিডোর দিয়ে হেঁটে রোগীদের ওয়ার্ডে যখন প্রবেশ করলেন তখন প্রবীণ রোগীদের চোখেমুখে এক অদ্ভুত বিস্ময় খেলা করছিল। কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত এই বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের অনেকেরই পরিবার নেই। আর যাদের আছে—তাঁদের কাছে কুষ্ঠ মানেই এক অদৃশ্য দেয়াল, অস্পৃশ্য মানুষ। হাসপাতালের সরকারি ডায়েটে উন্নত খাবারের আয়োজন ছিল ঠিকই, কিন্তু ঘরে রান্না করা সেই সামান্য সেমাইয়ের মিষ্টিতে ছিল মমতার স্বাদ। খাওয়ার মাঝেই রোগীদের জন্য ভেলপুরীর ব্যবস্থা করা হলো। মচমচে ভেলপুরির প্লেটটা যখন তাঁদের সামনে ধরা হলো, তখন কুঁচকানো চামড়ার হাতগুলোর কাঁপুনির মাঝে যেন এক চিলতে শৈশব ফিরে এলো। সেই তৃপ্তির হাসি আর আশীর্বাদ ছিল যে কোনো পার্থিব উপহারের চেয়ে দামি।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (লেপ্রসী) ডা. আফসানা আলমগীর খান বলেন, “হাসপাতালে সেবা কেবল ওষুধে হয় না, কখনও কখনও এক বাটি সেমাই আর একটুখানি সঙ্গতেই লুকিয়ে থাকে সুস্থতার আসল চাবিকাঠি। রোগীর চিকিৎসা তখনই পূর্ণ হয় যখন একজন চিকিৎসক হিসেবে নয়, একজন পরিবারের সদস্য হয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা করা হয়। চিকিৎসকদের এই সামান্য কাজই বুঝিয়ে দেয় পৃথিবীতে কেউই অবহেলিত নয়, অন্তত ভালোবাসার কাছে।”
ডা. আফসানা আলমগীর খান আরও বলেন, “কুষ্ঠ রোগীরা সাধারণত সমাজের অবহেলিত রোগী। আজ ঢাকার কুষ্ঠ রোগীদের সাথে ঈদের দিন কাটালাম। এরা সবাই প্রবীণ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। পরিবার নেই, অনেকের পরিবার থেকেও নেই। আমি বাসা থেকে সেমাই রান্না করে নিয়ে গিয়েছিলাম। হাসপাতালের সরকারি ডায়েটে ছিল উন্নত খাবার। রোগীদের আবদার ছিল তারা ভেলপুরি খাবে, সেই আবদার আমি পূরণ করেছি। আমার জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ তায়ালা যেন আমাকে সেবা করার তৌফিক দান করেন।”

নিজস্ব প্রতিবেদক