সীমান্তে অতন্দ্রপ্রহরী বিজিবি, স্বজনদের ছাড়াই কাটে ত্যাগের ঈদ
মায়ের হাতের সেমাই কিংবা বাবার সঙ্গে ঈদের নামাজে যাওয়া- একটি শিশুর ঈদের পূর্ণতা এখানেই। তবে দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত লালমনিরহাটের ভারত সীমান্তবর্তী বিজিবি সদস্যদের সন্তানদের ঈদ কাটে বাবার ফেরার অপেক্ষায়।
যখন কোটি মানুষ পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন, তখন একবুক চাপা কষ্ট চেপে দেশের সীমান্ত পাহারায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। মোবাইলের ওপার থেকে সন্তানের ‘বাবা তুমি ঈদে বাড়ি আসবে না?’ -এমন আকুতি ভরা প্রশ্নের জবাবে ‘দায়িত্বের কারণে এবার ছুটি পাইনি’ বলে সান্ত্বনা দিতে হয় সীমান্তর এই অতন্দ্র প্রহরীদের।
সন্তানকে কোনোভাবে সান্ত্বনা দিয়ে সেই বিজিবি সদস্য এনটিভি অনলাইনকে বলেন, আমার মতো এমন গল্প খুঁজে দেখেন- আরও অনেকের আছে। তার কণ্ঠে ভেসে ওঠে ত্যাগ, দায়িত্ব আর ভালোবাসার নীরব কষ্টের গল্প। কারও মা ফোন দেন, কারও বাবা। ঈদে বাড়ি যেতে না পারার কষ্ট থাকলেও, দেশের জন্য কিছু করতে পারার গর্বই তাদের শক্তি।
যখন দেশের কোটি মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন, ঠিক তখনই কিছু মুখ প্রিয়জনের স্পর্শ থেকে অনেক দূরে। কারণ, তারা পাহারা দিচ্ছেন আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের নিরাপত্তা।
এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর আসে ত্যাগের মহিমা নিয়ে। আর সেই ত্যাগের বাস্তব রূপ হয়ে সীমান্তে নিরন্তর দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা। কখনও জঙ্গলের গভীরে, কখনও নদীঘেরা দুর্গম সীমান্তে, আবার কখনও নৌপথে টহল দেন তারা। ঝড়-বৃষ্টি, দিন-রাত- কিছুই থামাতে পারে না তাদের দায়িত্ববোধ। তারা জেগে থাকেন বলেই নিরাপদে ঘুমায় পুরো দেশের মানুষ।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) তথ্যমতে, গত এক বছরে ভারতীয় কাপড়, মাদক, কসমেটিকস, গরু, জিরাসহ বিপুল পরিমাণ চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়েছে। শুধু লালমনিরহাট নয়- দেশের প্রতিটি সীমান্তেই একই চিত্র। ঈদ, পূজা কিংবা যেকোনো উৎসব- নিজেদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এই প্রহরীরা।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, সীমান্তবাসীদের কাছে আমাদের এটাই চাওয়া তারা পূর্বে যেভাবে আমাদের সহযোগিতা করে এসেছে, এভাবে আগামীতেও আমাদের সহযোগিতা করবে।

মামুনুর রশিদ, লালমনিরহাট (সদর-আদিতমারী)