খানসামায় সূর্যমুখীর হাসি, মাঠজুড়ে সোনালি স্বপ্নের হাতছানি
ভোরের আলো ফুটতেই দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানগড় গ্রামের দৃশ্য বদলে যায়। মাঠজুড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে হাজার হাজার সূর্যমুখী ফুল। বিস্তীর্ণ এই হলুদ মাঠ এখন শুধু কৃষকের লাভের স্বপ্নই দেখাচ্ছে না, বরং হয়ে উঠেছে এক দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্র।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি (১ম সংশোধিত) প্রকল্প’র আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর স্থানীয় কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উৎসাহিত করছে। দেশে ভোজ্য তেলের উৎপাদন বাড়ানো এবং কৃষকদের লাভজনক ফসলের সুযোগ করে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে উন্নত জাতের ‘হাইসান-৩৬’ সূর্যমুখী চাষের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১.২৫ মেট্রিক টন ফলন হিসেবে মোট ৫ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ছাতিয়ানগড় গ্রামের সফল কৃষক গোলাম মোস্তফা জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে তিনি প্রদর্শনী প্লটে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। খরচ কম এবং ফলন ভালো হওয়ায় তিনি বাম্পার ফলনের আশা করছেন। তার এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
হলুদ ফুলের এই সমুদ্র দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন, কেউবা তুলছেন ছবি।
দর্শনার্থী স্বনালী আক্তার বলেন, মাঠভরা এই ফুলগুলো মনকে শান্ত করে দেয়। পরিবার নিয়ে এসে খুব ভালো লাগছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, ‘হাইসান-৩৬’ জাতের সূর্যমুখী স্বল্প সময়ে এবং কম খরচে ভালো ফলন দেয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে সূর্যমুখী চাষ ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকদের এই লাভজনক চাষে নিয়মিত উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)