মাদরাসা শিক্ষকের পিটুনিতে হাসপাতালে ভর্তি ৭ বছরের শিশু
নরসিংদীর ‘মাদরাসাতুল আবরার এরাবিয়া’ মাদরাসায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে প্রহারের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে। শিক্ষকের পিটুনিতে শিশুটির পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বেঁধে ক্ষত হয়ে গেছে। শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ভেলানগর জেলখানার মোড় এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আহত শিশুর নাম মুজাহিদ। সে শিবপুর দক্ষিণ কাকারচর এলাকার দর্জি জুয়েল ও শান্তা বেগমের ছেলে ও ওই মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের ছাত্র।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) শিক্ষক নাজমুল মুজাহিদকে গোসল করতে বলেন। এতে অনীহা প্রকাশ করায় শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বেত দিয়ে বেধড়ক পেটান। একপর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে, জ্ঞান ফেরার পর তাকে পুনরায় পেটানো হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়া ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। শিশুটি বারবার মাফ চাইলেও শিক্ষক তাকে রেহাই দেননি, বরং বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখান।
পরে শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় দেখতে গিয়ে ছেলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরিবারের সদস্যরা জামা খুলে শিশুটির শরীরজুড়ে ক্ষত দেখে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মুজাহিদকে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি নেওয়া হলেও রাত ২টার দিকে তীব্র জ্বর ও বমিসহ অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত শিশু মুজাহিদ জানায়, ‘গোসল করি নাই দেখে হুজুর আমাকে মারছে। মারার পর আমি অজ্ঞান হয়ে গেছি। জ্ঞান ফেরার পর আবার মারছে। আমি বারবার বলছি আমাকে মাফ করে দেন, তবুও আমাকে মারছে।’
শিশুর নানি আক্ষেপ করে বলেন, ‘হুজুরদের দায়িত্ব বাবা-মার মতো আদর করে লেখাপড়া করানো। এমন অমানুষিক নির্যাতন করলে আমরা কেন বাচ্চা পাঠাব? আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুল ইসলাম নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, ‘তাকে গোসল করতে বলি, সে না শোনায় রাগে প্রহার করি। এটা আমার ঠিক হয় নাই। আমি ক্ষমা চেয়েছি।’
মাদরাসার পরিচালক মুফতি মেজবাহ উদ্দিন জানান, ‘ঘটনার পর আমরা পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নিতে বলেছিলাম। তারা রাজি না হওয়ায় আমরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে অব্যাহতি দিয়েছিলাম।’
নরসিংদী জেলা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ এন এম মিজানুর রহমান জানান, ‘৭ বছরের শিশুটির পিঠ, হাত ও পায়ে বেধড়ক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে ঢাকায় রেফার করা হতে পারে। সুস্থ হতে ৫-৭ দিন সময় লাগতে পারে।’

বিশ্বজিৎ সাহা, নরসিংদী