বেরোবির সাবেক উপাচার্যকে ‘হতভাগা’ বললেন চিফ প্রসিকিউটর
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের সাজা পাওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্যকে ‘হতভাগা’আখ্যা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে রায় ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, হতভাগা বেরোবির উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চুকে ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইবুনাল। এছাড়া এই মামলায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলামসহ মোট ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা এ রায়ে আপাতত সন্তুষ্ট। তবে পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাওয়ার পর তা বিশ্লেষণ করে আপিল করা হবে কিনা তা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷ কেননা এ মামলায় কাউকেই খালাস প্রদান করা হয়নি।
এ বিষয়ে রায়ের পর চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আবু সাঈদ হত্যার একমাত্র সরাসরি দৃশ্য ধারণ করায় ও আদালতে প্রত্যক্ষ সাক্ষী দেওয়ায় এনটিভির প্রতিনিধি এ কে এম মঈনুল হককে ধন্যবাদ জানাই। তিনি ও তার ক্যামেরাম্যানের সাহসিকতার কারণে সারা দুনিয়ায় আবু সাঈদ হত্যার ঘটনা মানুষ দেখার সুযোগ পেয়েছিল। এ জন্য সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ায় এনটিভিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ’
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনে অন্যতম শহীদ। তিনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। সারা জাতি, পৃথিবীর সব মানুষ সেটা অবলোকন করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাদের তদন্তেও এর অকাট্য প্রমাণ পেয়েছেন। এ মামলায় যাদের বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে। তারা (প্রসিকিউশন) বিশ্বাস করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
রায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দুজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন– সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার মোট আসামি ৩০ জন। এরমধ্যে মো. হাসিবুর রশীদসহ ২৪ আসামি পলাতক রয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক