কালবৈশাখীর তাণ্ডবে শিশুসহ আহত ৯, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন পুরো এলাকা
যশোরের কেশবপুরে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে বয়ে যাওয়া মাত্র কয়েক মিনিটের এই তাণ্ডবে একটি পৌরসভা ও ১২টি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়ে গাছ ও চালের টিন পড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় পুরো উপজেলা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, দুপুরের পর উত্তর দিক থেকে কালো মেঘের ঘনঘটা নিয়ে ঝড়টি হঠাৎ আঘাত হানে। কেশবপুর পৌর শহরসহ মাগুরাডাঙ্গা, খতিয়াখালি, সুজাপুর, ব্রহ্মকাটি, মূলগ্রাম, ভোগতি ভবানীপুর, গড়ভাঙ্গা, নতুনহাট, বাকাবর্ষী, পাঁজিয়া, রামচন্দ্রপুর ও বাঁশডাঙ্গা গ্রামের ওপর দিয়ে তাণ্ডব বয়ে যায়। শতাধিক বাড়ির চাল উড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
ঝড়ে আম ও মাঠের পাকা ধান শিলাবৃষ্টিতে ঝরে যাওয়ায় কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। রাস্তার ওপর বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ায় বহু এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আহত ৯ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিকেল থেকে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে রাস্তা থেকে গাছ অপসারণের কাজ শুরু করেছে। তবে ঝড়ের তীব্রতায় অনেক জায়গায় বড় গাছ উপড়ে পড়ায় উদ্ধার কাজ শেষ করতে বেগ পেতে হচ্ছে।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কেশবপুর জোনাল অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম বলেন, যশোর থেকে আসা মেন লাইনসহ উপজেলার অভ্যন্তরে বিদ্যুতের তার ছিড়ে ও খুটিসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ লাইন চালু করতে বেশ সময় লাগবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, আজকের আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে কেশবপুর পৌরসভা ও বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নেওয়া শুরু করেছি। ঝড়ে অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কৃষি ফসলের ওপর দিয়ে বড় বিপর্যয় গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে আছেন, তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ ও টিনের ব্যবস্থা করা হবে।

ইনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর)