‘গোয়েন্দারা জানিয়েছে আমার ভাতিজাকে হত্যা করেছে জিয়াউল’
গোয়েন্দাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি আমার ভাতিজা নজরুল ইসলামকে হত্যা করেছে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান’—জেরায় এ কথা উল্লেখ করেছেন হাবিবুর রহমান মল্লিক। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আসামিপক্ষের জেরায় তিনি এ কথা উল্লেখ করেন।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন হাবিবুর রহমান। ২২ এপ্রিল তার জবানবন্দি শেষে জেরা করেন জিয়াউলের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। তবে শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো আজ তার জেরা হয়। এ মামলায় একমাত্র আসামি হিসেবে রয়েছেন জিয়াউল।
জেরায় হাবিবুর রহমান উল্লেখ করেন, গোয়েন্দার মাধ্যমে জানতে পারলাম আমার ভাতিজাকে হত্যা করেছেন জিয়াউল আহসান। সাক্ষীর এ কথা অসত্য বলে দাবি করেন আইনজীবী টিটো। হাবিবুরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি এ কথা জবানবন্দিতে উল্লেখ করেননি। তদন্ত কর্মকর্তার শেখানো মতে আজ জিয়াউলের নাম বলেছেন।’
জবাবে সাক্ষী হাবিবুর রহমান বলেন, নজরুল হত্যার পর আমাদের বাড়িতে গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা ঘনঘন আসতেন। একদিন তারা জানিয়েছেন, ‘নজরুলকে হত্যা করেছে র্যাবের গোয়েন্দা প্রধান জিয়াউল আহসান। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলাম, মঈনুল করিমসহ অন্যরা। এ মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৬ মে দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। তবে তারিখ নির্ধারণে আপত্তি জানান জিয়াউলের বোন ও আইনজীবী নাজনীন নাহার। এ সময় বেশ উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় আইনজীবীদের মধ্যে।

নিজস্ব প্রতিবেদক