বিরূপ আবহাওয়ায় মরিচের ব্যাপক ক্ষতি, লোকসানে চাষিরা
জামালপুরের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বিভিন্ন প্রকার ফসলের পাশাপাশি ব্যাপকহারে মরিচের চাষাবাদ হয়ে থাকে। কিন্তু চলতি মৌসুমে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পাকা বা শুকনো মরিচের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদিত মরিচের প্রায় ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ও গুণগত মান হ্রাস পাওয়ায় অর্ধেক দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। এতে উপজেলার কয়েক হাজার মরিচ চাষি আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
শুরুতে মরিচের ফলন আশানুরূপ ছিল, কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় পাকা মরিচের বেশ ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কোটি টাকা বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত আশ্বিন-কার্তিক মাসে মরিচের বীজ বপন করা হয় এবং ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পরিপক্ব মরিচ খেত থেকে সংগ্রহ করা হয়। মাঝের সময়ে কাঁচা মরিচ তুলে বাজারে বিক্রি করে চাষিরা। কিন্তু কাঁচা মরিচের চেয়ে শুকনো মরিচ সহজে সংরক্ষণ করা যায় ও বিক্রিতেও লাভ বেশী, তাই কৃষকদের শুকনো মরিচের দিকে ঝোঁক বেশী থাকে। প্রতি বিঘা জমিতে ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১০ থেকে ১২ মণ মরিচ উৎপাদিত হয়ে থাকে। বাজারে ভালো মানের পাকা বা শুকনো মরিচ প্রতি মণ ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এবার বিরূপ আবহাওয়ার কারণে পাকা মরিচের রং নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছে না কৃষকরা। এসব মরিচ প্রতি মণ ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মরিচ চাষ লাভজনক হওয়ায় বিগত বছরগুলোতেও মরিচ চাষে অধিক লাভবান হয়েছেন এই অঞ্চলের চাষিরা, এতে আগ্রহ বাড়ে কৃষকদের। চলতি বছর মরিচ চাষের শুরু থেকে পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। খেত থেকে মরিচ তুলে শুকাতে দিলে আবহাওয়া বৈরী আচরণ শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় ৪০ শতাংশ মরিচের গুণগতমান নষ্ট হয়ে রং ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। এসব নষ্ট মরিচ বাজার দরের চেয়ে অনেক কম দামে অর্থাৎ ছয় হাজার টাকা প্রতি মণ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে প্রতি মণ মরিচে সাত থেকে আট হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে মরিচ চাষিদের। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এই অঞ্চলের ৪০ শতাংশ মরিচের রং নষ্ট হয়েছে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ এলাকার কৃষক শহীদ জামাল বলেন, মরিচ চাষে খরচ ও পরিশ্রম বেশি হলেও ভালো ফলন হলে লাভ হয়। কিন্তু এ বছর মরিচ শুকানোর সময় বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
পোল্যাকান্দি গ্রামের কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, শেষ সময়ে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে মরিচের মান নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে এসব মরিচের চাহিদা কম থাকায় কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আগের বছর লাভ হলেও এবার মরিচ চাষ করে লোকসান হয়েছে।
চর বাহাদুরাবাদ গ্রামের মরিচ চাষি আজগর আলী জানান, তিন বিঘা জমিতে মরিচ চাষে প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও প্রায় অর্ধেক মরিচের গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় আশানুরূপ লাভ হচ্ছে না। ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে উঠবো সেই চিন্তায় আছি। আমরা সরকারের কাছে সহায়তা চাই।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া বলেন, দেওয়ানগঞ্জে চলতি মৌসুমে ৪৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ৪৬০ হেক্টর জমিতে। শুরুতে মরিচের উৎপাদন ভালো হলেও পাকা মরিচ শুকানোর সময় বৃষ্টি হওয়ায় মরিচের রং নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে এসব মরিচের চাহিদা কম থাকায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছে না। মরিচ চাষিদের জন্য সরকার কোনো প্রণোদনা বরাদ্দ দিলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রদান করা হবে।

আসমাউল আসিফ, জামালপুর