তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপাকে পোশাক খাত, উৎপাদন ব্যাহত
তীব্র লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটের কারণে গভীর সংকটে পড়েছে দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার সহস্রাধিক তৈরি পোশাক কারখানা। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কম বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ডিজেল-গ্যাসের তীব্র সংকটে উৎপাদন সক্ষমতা ভয়াবহভাবে হ্রাস পেয়েছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দিনে-রাতে প্রায় ১২ ঘণ্টার বেশি সময় লোডশেডিং হচ্ছে। লোডশেডিং চলাকালীন জেনারেটর চালিয়ে কারখানা সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত ডিজেল না মেলায় অনেক সময় জেনারেটর বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ ছাড়াই বসে থাকছেন শ্রমিকরা।
আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার ‘ফ্যাশন ডট কম লিমিটেড’ কারখানার অপারেশন ডিরেক্টর এ কে এম আমিরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদনে ধস নেমেছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে পোশাক খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে।
একই কারখানার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির ত্রিমুখী সংকটে উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত।
শিল্প মালিকদের দাবি, বিদ্যুৎ না থাকায় বিকল্প উপায়ে কারখানা চালাতে গিয়ে উৎপাদন খরচ তিন গুণ বেড়ে গেছে। অথচ সেই তুলনায় উৎপাদন কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় অনেক বিদেশি ক্রেতা অসন্তোষ প্রকাশ করছেন এবং কার্যাদেশ বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আশুলিয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম সোলাইমান আহমেদ পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছি। ফলে বাধ্য হয়ে রেশনিং বা লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, জ্বালানি সংকটে পোশাক শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। একদিকে ব্যয় বৃদ্ধি, অন্যদিকে উৎপাদন হ্রাস-সব মিলিয়ে এই খাতে অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে। এর বাইরে সামনে ঈদুল আজহায় শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধ করতে হবে।

জাহিদুর রহমান