বরশিতে ধরা পড়ল বিরল প্রজাতির কুমির
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পদ্মা নদীতে এক জেলের বরশিতে বিরল প্রজাতির একটি মিঠা পানির কুমির ধরা পড়েছে। আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার গোপালপুর চর এলাকায় কুমিরটি ধরা পড়ে। বন্যপ্রাণী রক্ষায় সচেতনতা দেখিয়ে জেলে কুমিরটিকে আঘাত না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের জন্য নিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর সালেপুর এলাকার বাসিন্দা জেলে স্বপন বেপারী প্রতিদিনের মতো বড় মাছ ধরার জন্য পদ্মা নদীতে ‘হাজারী বরশি’ পেতেছিলেন। সোমবার সকালে তিনি তার দুই ছেলে রাজিব ও রবিউলসহ পাঁচজন মিলে বর্শি তুলতে গিয়ে দেখেন, সুতা ও বরশির জালে একটি বিশাল কুমির আটকা পড়ে আছে।
জেলে স্বপন বেপারী বলেন, আমি জানি কুমির মারা অপরাধ। তাই কুমিরটি বরশিতে আটকা পড়ার পর আমি সেটিকে আঘাত না করে সবার সহযোগিতায় উদ্ধার করি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য কাজীবাড়ির ঘাটে নিয়ে আসি। ধারণা করছি, কুমিরটি লম্বায় প্রায় ৭ ফুট এবং এর ওজন প্রায় দেড় মণ (৬০ কেজি)।
চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, কুমিরটি বর্তমানে ঘাটের পাশে পানিতে নিরাপদ দূরত্বে বেঁধে রাখা হয়েছে। খুলনা থেকে বন বিভাগের উদ্ধারকারী দল না আসা পর্যন্ত এটি যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ফরিদপুর বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জার তাওহীদ হোসেন জানান, এটি একটি বিপন্ন প্রজাতির মিঠা পানির কুমির। এর সঠিক দৈর্ঘ্য ও ওজন উদ্ধারকারী দল আসার পর নিরূপণ করা সম্ভব হবে।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পরপরই বন বিভাগের সাথে যোগাযোগ করেছি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তাদের একটি বিশেষ দল দ্রুতই আসবে। তারা কুমিরটি উদ্ধার করে তাদের অভয়াশ্রমে বা নিরাপদ কোনো স্থানে অবমুক্ত করবেন।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর