সানি হত্যা : মামলার প্রতিবেদন দিতে তাগিদ আদালতের
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী তারিকুজ্জামান সানি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে তাগিদ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান এ আদেশ দেন।
এ বিষয়ে আদালতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মুনিয়া আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এএসআই মুনিয়া আক্তার বলেন, এদিন বাদীপক্ষ থেকে মামলাটি নৌ-পুলিশ সংস্থা উত্তোলন করে সিআইডি অথবা পিবিআইকে তদন্তভার ন্যাস্ত করার আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন নাকচ করে নৌ-পুলিশকে প্রতিবেদন জমা দিতে তাগাদা দিয়েছেন।
মুনিয়া আক্তার আরও বলেন, আজ মামলার বাদী হাসানুজ্জামান মামলাটি নৌ-পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে সিআইডি অথবা পিবিআইকে তদন্তভার ন্যাস্ত করার আবেদন করেন।
বাদীর আবেদনে বলা হয়, মামলার শুরু থেকে, অর্থাৎ ২০২২ সালের ১৫ জুলাই থেকে নৌ-পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আসছে। কিন্তু তদন্তে কোনো অগ্রগতি উদঘাটন করতে পারেনি। বুয়েটের একজন মেধাবী ছাত্র হত্যার ঘটনা হওয়া সত্ত্বেও ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি। যে কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ হত্যা মামলার বিচার অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এ কারণে নৌ-পুলিশের কাছ থেকে মামলার তদন্তভার উত্তোলন করে পুলিশের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তদন্ত করার মতো অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সিআইডি বা পিবিআইয়ের ওপর তদন্তভার ন্যাস্ত করার আবেদন করেন তিনি।
বাদী হাসানুজ্জামানের পক্ষে অ্যাডভোকেট আবু তৈয়ব শুনানি করেন। তিনি বলেন, বিচারক আগামী ২ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৪ জুলাই বিকেলে ঢাকা জেলার দোহার থানাধীন মৈনট ঘাটে ১৫ বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী তারিকুজ্জামান সানি। বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের পঞ্চম সেশনের ছাত্র সানির বাবার নাম হারুন অর রশীদ। তার বাসা রাজধানীর হাজারীবাগে। নিখোঁজ হওয়ার পর সানির সন্ধানে নামে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। ওইদিন রাতে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে ১৫ জুলাই বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে মৈনট ঘাট থেকে ওই বুয়েট শিক্ষার্থী মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ১৫ জুলাই বিকেলে সানির বড় ভাই হাসানুজ্জামান হত্যা মামলা করেন।

আদালত প্রতিবেদক