কালবৈশাখী-শিলাবৃষ্টিতে ৪৪৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও প্রবল শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার অন্তত ৪৪৫ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বোরো ধান, ভুট্টা, পাট ও গ্রীষ্মকালীন সবজি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে বোরো ধান (৩২০ হেক্টর)। এ ছাড়াও ৫০ হেক্টর ভুট্টা, ২০ হেক্টর পাট, ৫০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি এবং তিল ও মুগ ডালের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক দিনের তীব্র তাপদাহের পর এই বৃষ্টি স্বস্তি আনার কথা থাকলেও শিলাবৃষ্টির তীব্রতা কৃষকদের জন্য আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন এলাকায় অনেক কৃষকের পাকা ধান শিলাবৃষ্টিতে ঝরে মাটিতে পড়ে গেছে। কেউ কেউ ধান কাটা শুরু করলেও হঠাৎ এই দুর্যোগে কাটা ধান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মাঠের পাশাপাশি উঠানে শুকাতে দেওয়া ভুট্টাও ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কৃষি উদ্যোক্তা আতাউর রহমান সরকার বলেন, এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। কিন্তু শিলাবৃষ্টিতে আমার ২০ শতাংশ পাকা ধান ঝরে গেছে।
দেওয়ানজীকান্দি গ্রামের ভুট্টাচাষি ইমরান হোসেন জানান, আগের ঘূর্ণিঝড়ে তার সব ভুট্টা গাছ লুটিয়ে পড়েছিল, এবারের শিলাবৃষ্টিতে অবশিষ্ট ফসলটুকুও নষ্ট হওয়ার পথে। পাটচাষি ও সবজি চাষিরাও একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।
ফসলের পাশাপাশি ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী জানান, প্রাথমিকভাবে ৪৪৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আমাদের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং ভুট্টা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলমান রয়েছে।

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর