অব্যাহতি পেলেন হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা থেকে হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনকে অব্যাহতি দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে আগে জারি করা রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।
আদালতে মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মারুফ হোসেন। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহীন আহমেদ।
আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন পরে গণমাধ্যমকে জানান, এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন সদ্য প্রয়াত খালেদা জিয়া, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে আগেই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তবে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে অভিযোগ গঠন (চার্জ ফ্রেম) করা হলে সেই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১এ ধারায় আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট আজ চূড়ান্ত রায় দিয়ে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমসি-র সঙ্গে চুক্তিতে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদক। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল আলম বাদী হয়ে এই মামলাটি করেছিলেন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর বিচারিক আদালত জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম এবং মোয়াজ্জেম হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। তবে একই দিনে খালেদা জিয়াসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিচারিক আদালতের ওই অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে আবেদন করেন। গত বছরের ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট তাঁর ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেছিলেন, যা আজ চূড়ান্ত শুনানির পর নিষ্পত্তি করা হলো।

নিজস্ব প্রতিবেদক