অটোরিকশা চালককে গলাকেটে হত্যা : ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড
ঢাকার কেরাণীগঞ্জ এলাকায় ডাকাতি করতে গিয়ে মুকুল হোসেন চকলেট নামে এক অটোরিকশা চালককে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক এ বি এম আশফাক-উল হক এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি দণ্ডিত প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মো. অলি আহম্মেদসহ পাঁচজনকে মামলা থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সোহেল ওরফে জুয়েল, শাহিন হাওলাদার, সুমন ওরফে আল আমিন, কবির এবং ফেরদৌস ওরফে বারেক ওরফে ভাতিজা। রায় ঘোষণার সময় কারাগারে থাকা শাহিন ও ফেরদৌসকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানাসহ তাদের পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে জামিনে থাকা অপর তিন আসামি—সোহেল, সুমন ও কবির সকালে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দিলেও রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করে আদালত তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ সাজা পরোয়ানা ইস্যু করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৭ জুন দুপুরে অটোরিকশা নিয়ে জীবিকার সন্ধানে বেরিয়ে নিখোঁজ হন মুকুল হোসেন চকলেট। অনেক খোঁজাখুঁজির পর অটোরিকশাটির মালিকের মাধ্যমে গাড়িটি মোহাম্মদপুর থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মুকুলের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার বার্তা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে মুকুলের গলাকাটা ও ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই আবু হানিফ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এই চূড়ান্ত রায় দেন।

আদালত প্রতিবেদক