পাকা ধান তলিয়ে যাওয়া দেখে অসুস্থ কৃষক, হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাওরে নিজের কষ্টের ফলানো পাকা বোরো ধান চোখের সামনে পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে অসুস্থ হয়ে আক্তার হোসেন (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার (২ মে) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সন্ধ্যায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আক্তার হোসেন উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের আলীনগর পশ্চিম পাড়ার মৃত দুধা মিয়ার ছেলে।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হোসেন ধার-দেনা করে প্রায় ৩ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকার সাথে তার জমিও প্লাবিত হয়। কিছু ধান কাটতে পারলেও পরিবহণ সংকটে সেগুলো বাড়ি নিতে পারেননি, বাকি ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। বিকেলে জমিতে গিয়ে ধানের এই করুণ দশা দেখে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
নিহতের ভাতিজা তৌহিদ জানান, তার চাচা প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। ঋণের বোঝা আর ধান নষ্ট হওয়ার শোক সইতে না পেরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জমিতেই তিনি জ্ঞান হারান। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সন্ধ্যার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান এখন পানির নিচে। বিশেষ করে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কৃষকরা আধাপাকা ধান কাটতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আজ রোববার নতুন করে আরও ২ হাজার হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। ফলে জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর।
দেওঘর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. নাছিমা আক্তার বলেন, পাকা ধানের জমি তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে আক্তার হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, রোগীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার শরীর ঠান্ডা ও ভেজা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালে আনার অন্তত ৩০ মিনিট আগে তার মৃত্যু হয়েছে।

মোজাহিদ সরকার, কিশোরগঞ্জ (অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলা)