জেলা প্রশাসক সম্মেলনে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আজ রোববার (৩ মে) সকালে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন। প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লিখিত বক্তব্য তুলে ধরা হলো—
“আস-সালামু আলাইকুম,
একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনাদের সঙ্গে আমার এটাই সরাসরি আনুষ্ঠানিক বৈঠক। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে আপনাদের সবাই হয়তো জেলা প্রশাসক হিসেবে সরাসরি জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না।
তবে আপনারা প্রায় প্রত্যেকেই হয়তো, যিনি যার অবস্থানে থেকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রমের সঙ্গে হয়তো সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
বিগত জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে জনপ্রশাসনের যারা জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন আমি প্রথমেই আপনাদেরকে আন্তরিক অভিনিন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের সামনে একটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে, জনরায়ের প্রতিফলন ঘটে জনপ্রশাসনের পক্ষে এমন সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব। অপরদিকে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রমাণিত হয়েছে জনপ্রশাসনের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা না করাও সম্ভব। আজকের এই জেলা প্রশাসক সম্মেলন নতুন নয়।
বরং এটি জেলা প্রশাসকদের নিয়মিত বার্ষিক সম্মেলন। আজ থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলন ৬ মে পর্যন্ত চলবে। জনস্বার্থে জনপ্রশাসনের কী ধরনের ভূমিকা পালন করা উচিত সেটি আপনারা সবাই কম বেশি অবগত। এটি নিয়ে মনে হয় আমাদের নতুন করে কিছু বলার নেই।
তবে এটি যেহেতু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে আপনাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক; সেহেতু সরকারের গৃহীত নীতিমালা এবং জনপ্রশাসন সম্পর্কে সরকারের কিছু পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশনা নিয়েই মূলত আমি আপনাদের সামনের কয়েকটি কথা বলতে চাই।
একটি দেশের জনপ্রশাসনে পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের জন্য যতগুলো প্রশাসনিক পদ রয়েছে, প্রতিটি পদই রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে হয়তো বা লাভবান হতে পারেন। তবে সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুতরাং, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সব পদেই কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি।
সবসময় নিজেদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতাই জনপ্রশাসনকে দুর্নীতিপরায়ণ ও অপেশাদার করে তোলার অন্যতম একটি কারণ বলে আমার মনে হয়। আমার ধারণা, আমার এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আপনারা একমত।
সুতরাং, আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই ‘গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য’ ভাবুন। দেশের যে কোনো স্থানেই যে কোন সময় জনপ্রশাসনের যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখুন।
আপনাদেরকে মনে রাখা জরুরি, একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয় জন প্রশাসনের কোনো পদও কারো জন্য চিরস্থায়ী নয়। জনপ্রশাসনের যেকোন স্তরের কর্মকর্তাগণ যদি রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যে কোনো সময় যে কোনো পদে দেশের স্বার্থে যে কোনো স্থানে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন। আমার বিশ্বাস, জনপ্রশাসনে পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
নিজেরা সরাসরি ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার। সুতরাং, জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্খার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায়।
সরকারের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আপনারা বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলে প্রশাসকগণই জনপ্রশাসনের সঙ্গে সরকারের প্রধান সেতুবন্ধন।
আপনাদের সততা, কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতার ওপর সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সাফল্য অনেকখানি নির্ভর করে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক অবস্থা ব্যবস্থা সম্পর্কে আপনারা ভালোভাবে অবগত আছেন।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল বিভাজিত জনপ্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে। আমরা অবস্থার পরিবর্তন করছি।
ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দুর্নীতি লুটপাট রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছে। ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দেশকে আমদানি নির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলা হয়েছে। দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরী হয়নি।
প্রতিটি সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে দেয়া হয়েছিল। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুদক সবকিছুই ছিল অকার্যকর। শিক্ষা-স্বাস্থ্য সব সেক্টরেই ছিল ভঙ্গুর অবস্থা। অপরদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতিও নতুন সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে কোনো দেশই রেহাই পায়নি।
তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায় সরকার সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই বর্তমান সরকার দেশের আবহমানকালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার দেশের প্রতিটি শ্রেণী পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করেছে। সরকার ইতোমধ্যেই একটি নীতিমালার ভিত্তিতে জনপ্রশাসন অর্থাৎ আপনাদের মাধ্যমেই কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্পোর্টস কার্ড দেওয়া শুরু করেছে। দেশের ইমাম মুয়াজ্জিন ও অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদেরকেও প্রতিমাসে সম্মানি ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
দল-মত নির্বিশেষে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি মানুষকে রাষ্ট্রীয় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে নিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য। আপনারা বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনে জনগণের জন্য সরকারের গৃহীত নীতি সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করবেন এটিই সরকারের প্রত্যাশা।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে নির্ধারিত এবং নির্বাচিত প্রতিটি সেক্টরের মানুষের কাছে বিভিন্ন ধরনের কার্ড সফলভাবে পৌঁছে দেবেন।
দেশকে বন্যা খরা থেকে মুক্ত রেখে সরকার সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রায় সারা বছর কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে চায়। এ লক্ষ্যে সরকার এক্সকেভেটরের পরিবর্তে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন-পুনঃখননের কাজ শুরু করেছে। এর মাধ্যমে একদিকে আমরা কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে পুনরায় কৃষি বিপ্লব শুরু করতে চাই।
অপরদিকে জনগণের সম্পৃক্ততায় খাল খনন করা গেলে এটি সাময়িক কর্মসংস্থানের পাশাপাশি জনগণের মধ্যে সামাজিক সংহতি এবং সম্প্রীতি সৃষ্টিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।
আমি একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই, নির্বাচনি ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বদ্ধপরিকর। এনিয়ে কারো মনে কোনো সংশয়ের কারণে নেই। আমি আশা করি আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি, দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে অবস্থান করছেন। একটি শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক, আইনসম্মত ও জনবান্ধব রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারাই হচ্ছেন সরকারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
সুশাসন বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলভিত্তি। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব ও জবাবদিহিতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা, ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা; সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
একই সঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত আইনকানুন ও জটিলতাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করে বাস্তবসম্মত, কার্যকর ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে জনগণ সময়মতো সরকারের প্রতিটি কর্মসূচির প্রত্যাশিত সুফল লাভ করতে পারে।
আমরা চাই সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনে নিয়োগ বদলি কিংবা পদায়নের মূলনীতি। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, বেসরকারি সার্ভিস রুলস প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
বিশ্ব এখন আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে প্রবেশ করেছে। সুতরাং, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকেও সময়ের সঙ্গে মোকাবিলায় নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে জনপ্রশাসনের কার্যক্রমকে আরো সময়োপযোগী, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা যায় সেটি নিশ্চিত করবে।
এই সম্মেলন কেবল আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের জায়গা নয়; বরং এটি এমন একটি পরিসর, যেখানে মাঠ প্রশাসনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সীমাবদ্ধতা, প্রয়োজন এবং উদ্ভাবনী চিন্তা সরাসরি জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হতে পারে। আপনারা মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক দূত।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। ইচ্ছেমতো যাতে কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়াতে না পারে কিংবা মজুতদারি বা কারসাজির মাধ্যমে বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি অপচেষ্টা করতে না পারে এ জন্য নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার রাখতে হবে।
বাজার ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এটি সামাজিক স্থিতি ও জনগণের আস্থার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। কৃষক যেন তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পায়. পাশাপাশি কৃষকের জন্য সার, বীজ, সেচ, সংরক্ষণ সুবিধা এবং বাজারজাতকরণের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। কৃষিকে শুধু উৎপাদনের বিষয় হিসেবে নয়, বরং গ্রামীণ জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, গ্রামীণ জনগণের শহরমুখিতা হ্রাস এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার নিয়ামক হিসেবে দেখতে হবে।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কার্যকর, নিয়মিত এবং দৃশ্যমান করতে হবে। যাতে আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অপরাধ দ্রুত দমন করা সম্ভব হয়। জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজতর করা, সরকারি সেবাকে হয়রানিমুক্ত করা এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকারি কার্যালয়ে সেবাপ্রার্থীরা যেন অপ্রয়োজনীয় হয়রানি, বিলম্ব কিংবা অনিয়মের শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। জনগণের যে কোনো ন্যায্য অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি বিষয়। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রো-অ্যাকটিভ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনপ্রশাসনকে গণমুখী না করা গেলে জনগণ সরকারের কার্যক্রমের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সরকারের যাবতীয় গণমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সরকার জনপ্রশাসনের উপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন সেক্টর চিহ্নিত করে সরকার দেশে বিদেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং জনস্বার্থে স্বেচ্ছাসেবামূলক অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। ধর্মীয় সামাজিক মুল্যবোধগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে।
আমরা একটি প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও নৈতিক রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, মত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য থাকবে না। জাতীয় ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে, থাকা স্বাভাবিক কিন্তু দেশের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।”

নিজস্ব প্রতিবেদক