ধলতা জটিলতায় রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ বেচাকেনা বন্ধ
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন হাটে ‘ধলতা’ বা অতিরিক্ত ওজনে পেঁয়াজ কেনা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নির্দেশের প্রতিবাদে হঠাৎ পেঁয়াজ কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন আড়তদার ও ব্যাপারীরা।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে এসে আড়ত বন্ধ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকশ প্রান্তিক চাষি। অনেক চাষি দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পেরে বাড়ি ফিরে গেছেন।
জানা গেছে, রাজবাড়ীর হাটগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ১ মণ পেঁয়াজ বিক্রির সময় ৪০ কেজির পরিবর্তে ৪৪ থেকে ৪৫ কেজি পেঁয়াজ দিতে হতো কৃষকদের, যা স্থানীয়ভাবে ‘ধলতা’ বা ‘দোলন’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি এই প্রথা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আড়ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
মঙ্গলবার সকালে বালিয়াকান্দির বহরপুর বাজার ও কালুখালীর সোনাপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজের আড়তগুলো তালাবদ্ধ। হাটে আসা আব্দুল হান্নান শেখ, আব্দুল আজিজ মোল্লা ও মাজেদ মোল্লাসহ একাধিক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে আমাদের ঠকাচ্ছেন। প্রশাসন ৪০ কেজিতে মণ নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত জানালে তারা পেঁয়াজ কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা ভ্যানে করে পেঁয়াজ নিয়ে এসে এখন বিপাকে পড়েছি।
এর আগে গতকাল সোমবার (৪ মে) বালিয়াকান্দি উপজেলা অডিটোরিয়ামে প্রশাসনের এক সভায় পেঁয়াজ ও আমসহ কৃষিপণ্যের সঠিক ওজন নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই সভায় স্পষ্ট জানানো হয়, ৪০ কেজির বেশি ওজনে পণ্য গ্রহণ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা গতকালই কৃষক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে সভা করে ওজন জালিয়াতি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। আজ ব্যবসায়ীরা কেনো হঠাৎ আড়ত বন্ধ রেখেছেন, তা খতিয়ে দেখতে আজই তাদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসব। দ্রুতই এই সংকটের সমাধান করা হবে।

মো. কবির হোসেন, রাজবাড়ী