ববির ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, শিক্ষকদের শাটডাউন
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) পদোন্নতির দাবিতে অসহযোগ আন্দোলনের ১৮ দিনে এসে ক্যাম্পাস শাটডাউন ঘোষণা করেছে আন্দোলনরত ৬০ শিক্ষক। আজ রোববার (১০ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেন তারা। এছাড়া আন্দোলনের অংশ হিসেবে ববির প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন দুই শিক্ষক।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। এতে ববির একাডেমিক ও শিক্ষক সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাজে অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হলো। এর প্রভাবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে সেশনজটের শঙ্কা বেড়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি- চলমান আন্দোলনের মধ্যে পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে ৩০ এপ্রিল ববিতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে পদোন্নতি দিতে ববিতে বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও চর্চা অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়ে চলমান সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল আন্দোলনরত শিক্ষকদের। এরপর শিক্ষকরা পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে পাঠদানে ফিরেছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকরা বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল শুক্রবারের (৮ মে) ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় আমাদের পদোন্নতির বিষয়ে যৌক্তিক সমাধান হবে। কিন্তু ববি উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী চলমান সংকট সমাধানের চেষ্টা করেননি। তা ছাড়া বেশিরভাগ সিন্ডিকেট সদসস্যের মতামত অগ্রাহ্য করে উপাচার্য নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে ববিকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। তাই আজ সভা করে ববিতে শাটডাউনের ঘোষণা দেওয়া হলো। পাশাপাশি উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা এবং প্রশাসনিক কাজ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এরই অংশ হিসেবে ববি প্রক্টর পদোন্নতি প্রত্যাশী ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রাহাত হোসাইন ফয়সাল ও সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার পদত্যাগ করেছেন।
ববির একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, বর্তমানে ফাইনাল, মিডটার্ম, ক্লাস টেস্ট এবং ক্লাস চলছে। এভাবে দিনের পর দিন ক্যাম্পাস অচল থাকলে শিক্ষাবিষয়ক সংকট আরও বাড়বে। তাই দ্রুত এ সংকট সমাধানের দাবি জানান তারা।
পদত্যাগের বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, ‘সংকট সমাধানে উপাচার্য আমাদের ন্যায্য দাবি উপক্ষোয় করায় সহকর্মী শিক্ষক-কর্মকর্তারা হতাশ। চলমান সংকট সমাধানসহ সার্বিক বিষয়ে উপাচার্যকে একাধিকবার অনুরোধের পরও তা কোনো কাজে আসেনি। তাই পদত্যাগ করেছি।’
ববির সিন্ডিকেট সদস্য ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার বলেন, ‘আমি সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের দাবি আদায়ের পক্ষে কথা বললেও তা উপেক্ষিত হয়েছে। এ কারণে আমি পদত্যাগ করেছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের পাঁচজন প্রতিনিধিসহ সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে- আগামী দুই মাসের মধ্যে অভিন্ন সংবিধি প্রণয়ন করে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হবে। কিন্তু এরই মধ্যে শিক্ষকরা আবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। আমরা বিধি অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে সর্বোচ্চ আন্তরিক।’
দুই শিক্ষকের পদত্যাগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমার কাছে এখনও পদত্যাগের কোনো চিঠি আসেনি। তারা অব্যাহতি নেবেন তা আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন।’
পদোন্নতি প্রত্যাশী শিক্ষকদের ২০১৫ সালের বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইউজিসি চিঠি দিয়ে সেই পদোন্নতি কার্যক্রম আটকে দিয়ে ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করে পদোন্নতি দিতে বলে। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অভিন্ন নীতিমালায় যুক্ত হলেও ববিসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় তা করেনি। তাই আগে ২০২১ সালের নীতিমালা সিন্ডিকেট পাস করে ইউজিসির অনুমোদনের পর পদোন্নতি দেওয়া হবে বলে বরাবর জানিয়ে আসছে ববি প্রশাসন।

আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল