জাল সনদ বিক্রির প্রতিষ্ঠান সিলগালা, দুই ক্লিনিক বন্ধ
যশোরের কেশবপুরে জালিয়াতির মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ট্রেডের সনদ বিক্রি এবং বৈধ কাগজপত্র না থাকায় একটি ট্রেনিং সেন্টার সিলগালাসহ দুটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল রোববার (১০ মে) দুপুর ১২টার দিকে যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা এই অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে ‘প্যারামেডিকেল এন্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন’ (পিটিএফ) নামের প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়। এছাড়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ‘কেশবপুর মাইকেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ ও ‘কেশবপুর ক্রিস্টাল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’র সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পিটিএফ-এর মালিক এ.কে আজাদ (ইকতিয়ার) ২০১৬ সালে জয়েন্ট স্টক থেকে সাধারণ নিবন্ধন নিয়ে চিকিৎসার ৫৬টি ট্রেডে জাল সনদ দেওয়ার ব্যবসা শুরু করেন। ডিএমএফ, ডিএমএ, প্যাথলজি ও আল্ট্রাসনোগ্রাফির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ট্রেনিংয়ের নামে জনপ্রতি ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই গত ১১ বছর ধরে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন তিনি।
সম্প্রতি ২৩টি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নিয়ে এনটিভি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ তৎপর হয়ে ওঠে। এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা. রেকসোনা খাতুন পিটিএফ-এ অভিযান চালিয়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সেই নির্দেশ অমান্য করে গোপনে জাল সনদ বিক্রি অব্যাহত রেখেছিল চক্রটি।
যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা বলেন, পিটিএফ নামের প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি ছাড়াই ভুয়া সার্টিফিকেট বিক্রি করছিল। অভিযানে তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। একইভাবে মাইকেল ও ক্রিস্টাল হাসপাতালও বৈধ নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। আজ সোমবার (১১ মে) সংশ্লিষ্টরা সঠিক কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর)