ভ্যানের হাতল ছেড়ে কলম ধরল সেই শিশু জুনায়েদ
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া): অভাবের তাড়নায় যে শিশু হাতে উঠেছিল ভ্যানের হাতল, মানবিক মানুষের ভালোবাসায় সেই হাতে এখন শোভা পাচ্ছে নতুন বই-খাতা। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১০ বছর বয়সী শিশু জুনায়েদ এখন আর ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নামে না, সে ফিরেছে তার চিরচেনা বিদ্যালয়ের আঙিনায়। গত ৭ মে এনটিভি অনলাইনে জুনায়েদের জীবনযুদ্ধের সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের সহায়তায় পাল্টে গেছে তার জীবনের গল্প।
দৌলতপুরের গরুড়া গ্রামের জুনায়েদের জীবন ছিল ট্র্যাজেডিতে ভরা। গত ঈদুল ফিতরের দিন তার বাবা হাবিবুর রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যান। এর আগেই তার মা জমানো টাকা নিয়ে ঘর ছাড়েন। বৃদ্ধ দাদা-দাদি আর ছোট ভাই-বোনের মুখে আহার তুলে দিতে প্রাগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র জুনায়েদ বাধ্য হয়ে বাবার ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নামে। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে তার ভ্যান চালানোর ছবি ও সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
জুনায়েদ এখন নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে। তার ছোট ভাই-বোনদেরও বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উচ্ছ্বসিত জুনায়েদ জানায়, সে কোনোদিন ভাবেনি আবারও স্কুলে ফিরতে পারবে। বড় হয়ে সে এখন ‘মানুষের মতো মানুষ’ হতে চায়।
নাতি-নাতনিদের স্কুলে ফিরতে দেখে দাদি সপা জান নেছা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, জুনায়েদ যখন ভ্যান নিয়ে বের হতো, বুকটা ফেটে যেত। অনেক মানুষ সাহায্য করেছেন। এখন আমরা শান্তিতে দু’মুঠো খেতে পারছি।
জুনায়েদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহাবুদ্দিন জানান, জুনায়েদ অত্যন্ত মেধাবী। সে ক্লাসে ফেরায় বিদ্যালয়ে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে।
স্থানীয় প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুজ্জামান জানান, শিশু জুনায়েদের পরিবার অসহায় এবং তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। তিনি জানান, পরিবারের সার্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি সবসময় এই পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছি। জুনায়েদ ও তার ভাই-বোনদের পড়াশোনা যেন আর বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

সাবিনা ইয়াসমিন শ্যামলী, কুষ্টিয়া