জলাবদ্ধতা নিরসন করে চট্টগ্রামবাসীর কষ্ট দূর করাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার : আমির খসরু
জলাবদ্ধতা নিরসন করে চট্টগ্রামবাসীর কষ্ট দূর করাই এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘এসব প্রকল্পে যদি কোনো লুটপাট হয়ে থাকে, তবে তার তদন্ত করা হবে। এর সঙ্গে কারা জড়িত তাদেরও খুঁজে বের করা হবে।’
শনিবার (১৬ মে) বেলা সাড়ে ৩টায় চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনের সময় নগরের শুলকবহর এলাকায় মির্জা খালের ওপর সেতুর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের আমির খসরু এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অর্থায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ, অতীতে প্রকল্প করা হলেও যথাযথভাবে অর্থায়ন করা হয়নি। এখন চেষ্টা করছি যা অর্থ প্রয়োজন, তা দেওয়ার জন্য। চট্টগ্রামের এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনের সময় তার সঙ্গে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. নুরুল করিম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ এ বছরই শেষ হবে জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন ও সিডিএ অনেকগুলো কাজ করেছে, যার সুফল সামনে পাওয়া যাবে। বর্তমানে প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং যেখানে যা সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় সরকারি জমির ওপর বাড়িঘর রয়েছে, তা সরাতে হচ্ছে, সেখানে প্রতিরোধ দেয়াল দেওয়া হচ্ছে এবং খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা বাড়ানো হচ্ছে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতার সমাধান হবে। এখানে আর স্থায়ী জলাবদ্ধতা হবে না।’
চট্টগ্রামে থাকা ছোট-বড় ১৩০টি খালের সবগুলোকে প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। কতটুকু বৃষ্টি হলে কী পরিমাণ পানি প্রবাহিত হবে ও সাগরে আউটলেট দিয়ে কীভাবে পানি নিষ্কাশিত হবে, তার সব হিসাব-নিকাশ করে কাজগুলো করা হচ্ছে। এখানে জোয়ার-ভাটার বিষয় আছে। জলকপাট (স্লুইসগেট) পরিচালনার ব্যবস্থাপনার বিষয় আছে। সবগুলো কাজ গুরুত্বের সঙ্গে করা হচ্ছে।’
এখন বর্ষা মৌসুমের কারণে অসমাপ্ত কাজগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্ষা শেষ হলে প্রকল্পগুলোর কাজ পরিপূর্ণভাবে শেষ করা হবে। কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না। পানি নিষ্কাশনে আর সমস্যা হবে না। যদিও অতিবৃষ্টির কারণে সাময়িক জলজট হতে পারে।’
আগে জলাবদ্ধতা নিরসন কাজে সমন্বয়ের অভাব থাকলেও বর্তমানে তা নেই উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রকল্পের কাজে সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে, আগে তা ছিল না। এখন সমন্বয়ের মাধ্যমে সবাই কাজ করছে। আর প্রকল্পটি সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য চট্টগ্রামের মেয়রের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘খালকে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।’
অর্থমন্ত্রী, তিন প্রতিমন্ত্রী ও সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রবর্তক মোড়ে হিজড়া খালসহ নগরের আরও কিছু খালে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামসুল আলম, প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসিনুল হক চৌধুরী প্রমুখ।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)