সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি ২ বন্ধু নিহত
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ইউনুস (৫৫) ও নাঙ্গলকোট উপজেলার নূর আলম (৪৫) দুই বন্ধু। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে তারা সৌদি আরবের রিয়াদে ব্যবসা করছিলেন। শনিবার জেদ্দায় ব্যবসার কাজে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে আল মাহাদ আদ দাহাব নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় তারা মারা গেছেন।
দুই বন্ধুর মৃত্যুর সংবাদ দেশে পৌঁছালে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনায় নিহত ইউনুস মিয়ার চার মাসের পুত্র সন্তানকে এক নজর দেখতে কোরবানির ঈদে দেশে আসার কথা ছিল। তার প্রবাস জীবনের ২৪ বছরে এই প্রথম কোরবানির ঈদ স্বজনদের সঙ্গে করার কথা ছিল। এ উপলক্ষে সব কেনাকাটা ও বিমানের টিকেটও কেটে রাখছিলেন তিনি। নিহত ইউনুস কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বসুয়ারা গ্রামের সাবির আলীর বড় ছেলে। নূর আলম নাঙ্গলকোট উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের বাসুদাই গ্রামের মৃত খলিল সওদাঘরের ছেলে।
নিহত ইউনুসের ছোট ভাই ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মারুফ আজ রোববার দুপুরে বলেন, আমার বড় ভাই আমাদের পরিবারের অভিভাবক ছিলেন। তার স্ত্রী, তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। প্রবাসে যাওয়ার পর তিনি একাধিকবার দেশে এলেও কখনও পরিবারের সঙ্গে কোরবানির ঈদ করতে পারেননি। এবারই প্রথম তিনি কোরবানির উদ্দেশ্যে ২৭ মে দেশে আসার জন্য বিমানের টিকেটও কনফার্ম করেছিলেন। তার ছোট ছেলের বয়স মাত্র চার মাস। তাকেও তিনি প্রথমবারের মতো দেখার জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন। আমার বৃদ্ধ মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা ভাইয়ের মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
দুই পরিবারের স্বজনরাই জানায়, নুর আলম ও ইউনুস মিয়া সৌদি আরবের রিয়াদে যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। গত শুক্রবার জেদ্দা থেকে দোকানের মালামাল নিয়ে রিয়াদে ফেরার পথে তাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। চালকসহ আহত হয় আরও দুই জন। এবারের কোরবানির ঈদে নুরে আলম ও ইউনুস দেশে আসার কথা ছিল। তারা দুজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী ও নিহত নুরে আলমের ভাগিনা মনির হোসেন জানান, দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে তার মামা নুর আলম ও তার বন্ধু ইউনুস মিয়া মারা যান।
নিহত নুর আলমের স্ত্রী সুমি আক্তার বলেন, আমাদের পরিবারে ছয়জনের ভরণ-পোষণ চলত স্বামীর উপার্জনে। তাকে হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। কীভাবে চলবে সংসার, তা ভাবতে পারছি না। আমার স্বামীর মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা চাই।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূরুল আমিন জানান, সৌদি আরবে নিহত ইউনুস মিয়ার মরদেহ দেশে নিয়ে আসতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
অপরদিকে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রবাসী নূর আলমের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

মনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা (চৌদ্দগ্রাম)