পেট্রল ঢেলে যুবককে পুড়িয়ে হত্যা, তৃতীয় লিঙ্গের জহির গ্রেপ্তার
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় মাদক ব্যবসার টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে হিজড়াদের অন্তর্কোন্দলের জেরে এনামুল হক শিশির ওরফে মাহী (২৪) নামে এক যুবককে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার চার দিন পর গত রোববার (১৭ মে) বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি তৃতীয় লিঙ্গের জহিরুল ইসলাম ওরফে জহিরকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২। গতকাল সোমবার (১৮ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১ সিপিসি-২ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক সিনিয়র এএসপি মিঠুন কুমার কুন্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মিঠুন কুমার কুন্ডু জানান, গত ১৮ মে সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা সীমান্ত এলাকা থেকে র্যাব-৬ এর সহযোগিতায় জহিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জহির হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই তৃতীয় লিঙ্গের মাহীকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে র্যাবকে জানান তিনি। এ ঘটনায় পুলিশ তৃতীয় লিঙ্গের দোলা নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত এনামুল হক শিশির ওরফে মাহী বুড়িচং উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ণমতি গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৩ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বুড়িচং পৌরসভার মধ্যবাজার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
মামলার বিবরণে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, বুড়িচং সদর ইউনিয়নের সরকারি একটি জায়গায় তৃতীয় লিঙ্গের কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে এনামুল হক শিশির প্রকৃত তৃতীয় লিঙ্গের না হয়েও ‘মাহী’ ছদ্মনাম ধারণ করে তাদের সঙ্গে দলভুক্ত হয়ে বসবাস করতেন। মূলত মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ ও অন্তর্কোন্দল চলছিল।
ঘটনার দিন সকালে এনামুল হক শিশিরের সঙ্গে কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তির বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সহযোগীদের সহায়তায় তৃতীয় লিঙ্গের জহির শিশিরের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে শরীরজুড়ে ক্ষত ও গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত রোববার বিকেলে তিনি মারা যান।
ওসি লুৎফর রহমান আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা কামরুল হক ফরহাদ বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে দোলা নামে এক তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। মামলার বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা