বকেয়া বেতনের দাবিতে সাভারে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ
বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে সাভারে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বন্ধ হয়ে যাওয়া চারটি কারখানার শ্রমিকরা। আজ বুধবার (২০ মে) সকালে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
শ্রমিকদের আকস্মিক এই অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে অফিসগামী মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীসহ অসংখ্য যানবাহন আটকে পড়ে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং যানবাহন চলাচল শুরু করে।
এর আগে একই দাবিতে গত সোমবারও ডিইপিজেডের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিলেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা। শ্রমিকদের আলটিমেটাম, আসন্ন ঈদের আগে যদি তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা না হয়, তবে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে নামবেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, সকাল থেকেই ডিইপিজেডের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন ‘এক্তর স্পোটিং লিমিটেড’, ‘সাউথ চায়না লিমিটেড’, ‘গোল্ডটেক্স গার্মেন্টস লিমিটেড’ ও ‘গোল্ডটেক্স টেক্সটাইল লিমিটেড’ নামের চারটি কারখানার শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, হংকংয়ের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান পরিচালিত এই চারটি কারখানা কিছুদিন আগে ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে হঠাৎ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর ফলে রাতারাতি বেকার হয়ে পড়েন প্রায় ২ হাজার ৮০০ শ্রমিক। নিয়ম অনুযায়ী কারখানা বন্ধের ১৫ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের সব ধরনের বেতন-ভাতা ও পাওনা পরিশোধ করার কথা থাকলেও, দীর্ঘ আট মাস ধরে তারা তাদের বকেয়া বুঝে পাননি। চরম আর্থিক অনটনে দিন কাটানোয় বাধ্য হয়ে তারা রাস্তায় নেমেছেন।
এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানান, কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিক। আমরা বন্ধ হওয়া ৪টি কারখানা বিক্রি করে শ্রমিকদের সমুদয় বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে চাই। কারখানার ইনভেন্টরি ও ভ্যালুয়েশন (মূল্য নির্ধারণ) করার জন্য বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা), ম্যাজিস্ট্রেট ও কাস্টমসের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করবে।
মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম আরও জানান, এই বিষয়ে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে এবং তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, যেকোনো মূল্যে তারা তাদের পাওনা বকেয়া পাবেন। তবে কারখানা চারটির মালিকপক্ষ উচ্চ আদালতে একটি রিট করায় কারখানা বিক্রির প্রক্রিয়াটি বর্তমানে আইনি জটিলতায় ঝুলে আছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে এবং শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের পথ সুগম হবে। এই পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য সবাইকে কিছুটা ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

জাহিদুর রহমান