ফেসবুকে প্রেম থেকে বিয়ে, ৪ মাসেই গল্পের ইতি
ফেসবুকে পরিচয়, এরপর প্রেম। সেই প্রেম হয় থেকে পরিণয়। কিন্তু চার মাসেই গলায় ফাঁস নিয়ে সেই প্রেমের গল্পের সমাপ্তি টেনেছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী এক যুবক। গতকাল শনিবার (২৩ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিমনের বাবা মিন্টু মিয়াও মালয়েশিয়া প্রবাসী।
বুকভরা স্বপ্ন আর সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশা নিয়ে তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া গ্রামের যুবক রিমন (২৫)। প্রবাসী রিমনের সঙ্গে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রিপন মিয়ার মেয়ে রশ্মি খাতুনের পরিচয় হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। এরপর সেই পরিচয় গড়ায় প্রেমে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি দূরপ্রবাসে থাকা রিমনের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর পরিবার ও স্ত্রীকে নিয়ে নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন ছিল রিমনের। কথা ছিল, আসন্ন ঈদুল আজহার পর স্ত্রীকে মালয়েশিয়ায় নিজের কাছে নিয়ে যাবেন তিনি।
মালয়েশিয়ার শাহালম শহরে একটি ফার্নিচার কারখানায় কর্মরত রিমন—যাকে পরিবারের কেউ কেউ লিমন নামেও ডাকতেন—স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাকাটাকাটির পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় এই মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিমনের স্ত্রী রশ্মি খাতুন জানান, গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিমন তাকে ফোন করেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তিনি দাবি করেন, ওই সময় রিমন আত্মহত্যার কথা বলেছিলেন।
রশ্মি বলেন, ‘সে আমাকে বলেছিল গলায় ফাঁস দেবে। আমি আল্লাহর কসম দিয়ে বারবার তাকে নিষেধ করি। কিন্তু এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সকাল ১১টার দিকে আমার শ্বশুর মালয়েশিয়া থেকে ফোন করে জানান, রিমন সিঁড়িঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।’
রিমনের মা বলেন, ‘ছেলে মাঝেমধ্যে আত্মহত্যার কথা বলত এবং ইমো কিংবা মেসেঞ্জারে গলায় দড়ি দেওয়ার প্রতীকী ছবি পাঠাত। তবে বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে নিলেও এমন পরিণতি হবে তা কল্পনাও করতে পারিনি।’
বর্তমানে রিমনের মরদেহ মালয়েশিয়ার একটি স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও কাগজপত্র সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ দিন লাগতে পারে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে আনা হবে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।’

মো. আব্দুল্লাহ হক, চুয়াডাঙ্গা (সদর-আলমডাঙ্গা)