কোরবানির পশু ঘিরে এখনো জমে ওঠেনি গো-খাদ্যের বেচাকেনা
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর পাড়া-মহল্লা ও বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে গো-খাদ্য। এসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা ঘাস, শুকনো খড়, ভুসি, খৈল, কুঁড়া, ভুট্টা ভাঙা ও কাঁঠালপাতাসহ নানা ধরনের পশুখাদ্য।
আজ সোমবার (২৫ মে) রাজধানীর কারওয়ানবাজার, শনিরআখড়া, যাত্রাবাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে অস্থায়ী ভিত্তিতে অনেকে গো-খাদ্যের পশরা নিয়ে বসেছেন। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পশুর কেনাবেচা পুরোদমে শুরু না হওয়ায় গো-খাদ্যের বাজার এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি।
যাত্রাবাড়িতে সিদ্দিক নামের এক দোকানি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে করে গরুর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গো-খাদ্যও নিয়ে আসছেন বেপারিরা। এগুলো পরে স্থানীয় অন্য পেশার মানুষেরা পাইকারিভাবে ক্রয় করে বিক্রি করছেন। আবার অনেক গরুর বেপারিও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের গো-খাদ্য বিক্রিতে বসিয়ে দিচ্ছেন।
নাটোর থেকে ব্যবসায়ী আমিনুল হায়দার বলেন, এখন প্রতিদিনই কিছু কিছু বেচাকেনা হচ্ছে। শেষ দিকে ক্রেতা যখন বাড়বে, তখন দম ফেলার ফুসরত থাকবে না। পরিবহন ব্যয় ও পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় এবার গো-খাদ্যের দাম বেশি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কারওয়ানবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি আঁটি কাঁচা ঘাস বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়, শুকনো খড়ের ছোট আঁটি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, প্রতি কেজি ভুসি ৭০ টাকা, খৈল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কুঁড়া ৪০ টাকা এবং কাঁঠালপাতার একটি বস্তা ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রংপুর থেকে খড় নিয়ে আসা রাজা মিয়া বলেন, প্রতিবছর এই কোরবানি ঈদের সময় ঢাকায় এসে খড় বিক্রি করি। এবার দুই ট্রাক খড় এনেছি। তবে এখনও মূল বেচাবিক্রি শুরু হয়নি। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে তো সহজে খড় বা ঘাস পাওয়া যায় না। যারা কোরবানির জন্য ২-৩ দিন আগে গরু কেনেন, তারা সুস্থ রাখার জন্য কয়েক দিনের খড়-ঘাস একবারে কিনে রাখেন। সাধারণত ঈদের আগের ৫-৬ দিন এই ব্যবসা খুব ভালো চলে।
শনিরআখড়ার ইয়াসিন মিয়া নামে এক ব্যক্তি বলেন, ঈদে বাড়তি আয় করার জন্য বেপারিদের কাছ থেকে গো-খাদ্য পাইকারি দামে ক্রয় করেছেন। তিনি এগুলো পরিচিতদের বাসায় গিয়ে গিয়ে বিক্রি করছেন। এতে ঈদের মধ্যে হাতখরচটা পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক