ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৪ পয়েন্টে যানজট ও ডাকাতির শঙ্কা
পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। বিশেষ করে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশজুড়ে বেড়েছে যানবাহনের চাপ, দীর্ঘ যানজটের শঙ্কা। একই সঙ্গে রাতে মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন চালক ও যাত্রীরা।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা ও ফেনী অংশে ২৪টি স্থানকে যানজটপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ২০০ কিলোমিটারজুড়ে এসব ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের নজরদারি ও টহল।
তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং হাইওয়ে পুলিশের দাবি, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা তাদের।
আজ রোববার (২৫ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দাউদকান্দি, গৌরীপুর, চান্দিনা, নিমসার, আলেখারচর, পদুয়ারবাজার, মিয়াবাজার ও চৌদ্দগ্রাম এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। কোথাও কোথাও থেমে থেমে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ সারি।
ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের চালক ওবায়দুল হক বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া এলাকায় আসার পর থেকেই যানজট শুরু হয়। ঘনঘন ইউটার্ন, বাজার আর বাড়তি গাড়ির চাপের কারণে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালানো যাচ্ছে না।’
নিমসার সবজি বাজার এলাকায় আটকে থাকা ট্রাকচালক শাহিন মিয়া বলেন, এক ঘণ্টা গাড়ি টেনে একটু সামনে যাই, আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। খুব খারাপ অবস্থা।
কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর, আমিরাবাদ, চান্দিনা ও মাধাইয়া বাজার এলাকায় মহাসড়কের পাশেই বাজার বাসস্ট্যান্ড ও ইউটার্ন থাকায় সেসব স্থানকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এদিকে, কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে আলেখারচর পর্যন্ত মহাসড়কের সংস্কারকাজ চলমান থাকায় ওই অংশেও যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
পদুয়ারবাজারে পার্শ্ব সড়ক ও ইউটার্ন, মিয়াবাজারে মহাসড়কের দুই পাশে দোকানপাট ও বাসস্ট্যান্ড এবং চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় বাস স্টপেজের কারণে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে।
অন্যদিকে রাতের বেলায় মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে যাত্রীদের মধ্যে। কয়েকজন চালক অভিযোগ করেন, গভীর রাতে নির্জন অংশে আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আদনান ইবনে হাসান বলেন, ‘ঈদের আগে চলমান বড় ধরনের মেরামত বন্ধ রাখা হবে। যেখানে ভাঙাচোরা আছে সেগুলো দ্রুত সংস্কার করা হচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও পরে আবার দখল হয়ে যায়। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে।
হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহীনুর আলম খান বলেন, দাউদকান্দি থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ পর্যন্ত ৭২৯ কিলোমিটার মহাসড়ক নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য কাজ করবেন। এর মধ্যে অতিরিক্ত ২৫০ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
শাহীনুর আলম খান আরও বলেন, ছিনতাই ও ডাকাতি ঠেকাতে রাতে পুলিশের টহল জোরদার করা হবে। এ বিষয়ে জেলা পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় করা হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে যেন পশুর হাট না বসে সেজন্যও নজরদারি চলছে।
প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের আশা, বাড়তি চাপ থাকলেও সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা