ঈদ শেষে দৌলতদিয়ায় ফিরতি যাত্রীর চাপ, পারাপারে নেই ভোগান্তি
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের উল্লেখযোগ্য চাপ লক্ষ্য করা গেছে।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চ ঘাট এলাকায় যাত্রীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও দুপুরের পর বিকেলের দিকে তা ক্রমান্বয়ে বাড়তে শুরু করে। ব্যক্তিগত যানবাহন, দূরপাল্লার বাস, মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন ছোট-বড় পরিবহণে করে রাজধানীর উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন হাজারো যাত্রী। অনেককে আবার লোকাল বাস ও তিন চাকার ইজিবাইকে চড়ে লঞ্চ ঘাটে এসে নির্বিঘ্নে লঞ্চে চড়ে নদী পারাপার হতে দেখা গেছে।
রাজবাড়ী থেকে ঢাকাগামী যাত্রী রূপা আক্তার তার ফিরতি পথের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এবারের ঈদ যাত্রায় অন্য বছরের মতো ফেরি বা লঞ্চের জন্য ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার মতো তেমন কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। তবে আকাশ পরিষ্কার থাকায় রোদের তাপে প্রচণ্ড গরম ছিল, যার ফলে দুটি ছোট বাচ্চা নিয়ে পথ চলতে কিছুটা কষ্ট করতে হয়েছে।
মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া রিপন সরদার জানান, অন্যান্যবার ঈদের পর ঘাটে কিংবা মহাসড়কে যে তীব্র যানজট থাকে, এবারের ঈদে তেমন কোনো চিত্র নেই। রাস্তাঘাট বেশ ফাঁকা থাকায় খুব ভালোভাবেই ও দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঘাট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ওয়ান ওয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে এবারের ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়ায় বড় ধরনের কোনো ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়নি। যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে আগে থেকেই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও আধুনিক ঘাট ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করায় সবাইকে নির্বিঘ্নে পার করে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য শাখা) মো. সালাউদ্দিন সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে বলেন, যাত্রী ও দূরপাল্লার যানবাহন পারাপার সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখতে বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট-বড় ১৬টি ফেরি এবং ২০টি লঞ্চ সার্বক্ষণিকভাবে চলাচল করছে। ঘাট এলাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিআইডব্লিউটিসির কর্মীরা সমন্বিতভাবে মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

মো. কবির হোসেন, রাজবাড়ী