বর্জ্য অপসারণ করে প্রশংসিত কুসিক প্রশাসকসহ পরিচ্ছন্নকর্মীরা
কোরবানি করার পর মাত্র নয় ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করে প্রশংসায় ভাসছেন পরিচ্ছন্নকর্মীরা। এর আগে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ঘোষণা দিয়েছিলেন ৯ ঘণ্টার মধ্যেই বর্জ্য অপসারণ করা হবে। তার ঘোষণা মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে। এতে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেছে নগরবাসী।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠসহ নগরীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজ শেষে শুরু হয় কোরবানির পশু জবাই। দুপুর পর্যন্ত চলে এ জবাই কার্যক্রম।
এর আগের দিনই প্রতিটি ওয়ার্ডে বর্জ্য অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার পৌঁছে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গঠন করা হয় বিশেষ মনিটরিং সেল।
নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মুহিবুর রহমান তুহিন বলেন, ‘প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর তত্ত্বাবধানে এবার ওয়ার্ড সচিবদের মধ্যে পর্যাপ্ত ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার বিতরণ করা হয়েছে। ঘোষণামতো বৃহস্পতিবার রাত ১০টার মধ্যেই এ ওয়ার্ডের কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ হয়। এটি অবশ্যই একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল। তবে প্রশাসকের দূরদর্শী নেতৃত্বে যথাসময়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হয়েছে।
নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এবার কোরবানির পর কোথাও বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখিনি। দুর্গন্ধও নেই। তবে কয়েকটি স্থানে চামড়া স্তূপ করে রাখা হয়েছিল।
ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা আবদুস সাত্তার বলেন, ‘সম্ভবত এবারই প্রথম কোরবানির দিনেই পুরো নগরীর বর্জ্য যথাসময়ে অপসারণ করা হয়েছে।
পরিচ্ছন্নকর্মী রিপন ও জাবেদ বলেন, কোরবানির আগে প্রধানমন্ত্রী আমাদের বোনাস দিয়েছেন। ঈদগাহে প্রশাসক স্যার নিজ হাতে সেই বোনাস তুলে দেন। তখন তিনি অনুরোধ করেছিলেন ৯ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। আমরা কথা দিয়েছিলাম কাজটি করব। প্রায় ৬০০ পরিচ্ছন্নকর্মী মাত্র নয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো শহর পরিষ্কার করেছি।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, সাড়ে ৬০০ পরিচ্ছন্নকর্মী ও তাদের টিম লিডারদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে এ বছর বর্জ্য অপসারণ নিয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এই কাজে সিটি করপোরেশনের ৭০টি গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ করতে নগরবাসীর সহযোগিতাও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা