মানিকগঞ্জে ব্যতিক্রমী মাছ ধরা উৎসবে মানুষের ঢল
ঈদ মানেই আনন্দ, মিলনমেলা আর উৎসবের রঙে রঙিন কিছু মুহূর্ত। সেই আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তুলতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার চান্দরা এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী মাছ ধরা উৎসব। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে আয়োজিত এ উৎসব পরিণত হয় হাজারো মানুষের প্রাণের মিলনমেলায়।
আজ শনিবার (৩০ মে) দুপুরে চান্দরা যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এ মাছ ধরা উৎসবে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দুই শতাধিক মাছ শিকারি অংশ নেন। নির্ধারিত সময়ের বাঁশির সংকেত বাজতেই প্রতিযোগীরা একযোগে পুকুরে নেমে পড়েন। মুহূর্তেই উৎসবস্থল জমে ওঠে উৎসাহ-উদ্দীপনা আর আনন্দে।
জাল, খেয়া জাল ও বিভিন্ন দেশীয় মাছ ধরার উপকরণ নিয়ে মাছ শিকারীদের ব্যস্ততা দেখতে পুকুরপাড়ে ভিড় করেন শত শত দর্শনার্থী। মাছ ধরার প্রতিটি মুহূর্তে উচ্ছ্বাস আর করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
উৎসবকে ঘিরে শিশু-কিশোর, তরুণ, প্রবীণসহ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় এক প্রাণবন্ত পরিবেশ। ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই উৎসব উপভোগ করতে আসে। ফলে মাছ ধরা প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন সামাজিক মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবির সভাপতি মুহাম্মদ জাহিদুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অতিথিরা বলেন, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও প্রজন্মের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় করতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
আয়োজকদের ভাষ্য, ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করা এবং তরুণ প্রজন্মকে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এ আয়োজন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
উৎসবে অংশ নেওয়া রজ্জব আলী বলেন, ‘এখানে জয়ের চেয়ে বড় বিষয় ছিল আনন্দ। সবাই মিলে একসঙ্গে মাছ ধরা, গল্প করা আর ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
কাফাটিয়া গ্রামের আমিনুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন মানুষকে কাছে আনে। নতুন প্রজন্ম মোবাইলফোন ও প্রযুক্তির বাইরে এসে গ্রামীণ সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে। এটি শুধু বিনোদন নয়, আমাদের ঐতিহ্য রক্ষারও একটি সুন্দর উদ্যোগ।’

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ