মায়ের প্রতি ‘অবহেলা’ করা সেই যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরে একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগম নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার যুগ্ম সচিব ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই কর্মকর্তা বর্তমানে যুগ্ম সচিব পদ মর্যাদায় মোংলা বন্দরের (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) সদস্য পদে কর্মরত রয়েছেন।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ওই কর্মকর্তার (যুগ্ম সচিব) বক্তব্য গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। ইতিমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০২৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এ ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে জুডিশিয়াল তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
৭৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার সন্তানদের ‘অবহেলা’র বিষয়টি গণমাধ্যমে আসে। নূরজাহান বেগমের এক ছেলে যুগ্ম সচিব, এক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং এক মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর নূরজাহান বেগমের যে ছেলে যুগ্ম সচিব, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
নূরজাহান বেগম তার মেয়ের সঙ্গে যে বাসায় থাকতেন, সেই বাসার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, নূরজাহান বেগমের ঘরসহ পুরো ফ্ল্যাটের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। নূরজাহান বেগমের ডান চোখে সাদা ফাঙ্গাসের মতো পড়ে গেছে। পল্লবী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তারা মরদেহ উদ্ধারের সময় তাতে পোকার অস্তিত্ব দেখেছেন।
এ ঘটনার পর আবার আলোচনায় এসেছে ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনটি। ২০২৩ সালে এ আইনের বিধিমালাও করা হয়। আইনে বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে সন্তানরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে ভরণপোষণ নিশ্চিত করবেন। পিতা-মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখবেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করবেন। আইন না মানলে অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন বা অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক