ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নে জোর দিতে হবে : অর্থমন্ত্রী
সরকার ধীরে ধীরে ব্যাংকঋণনির্ভর অর্থায়ন থেকে বেরিয়ে এসে বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে একটি বাজারভিত্তিক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
রবিবার (২১ জুন) রাজধানীতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা কেবল বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর দিকে তাকিয়ে থাকতে পারি না। আমাদের নিজেদের সরকারি অর্থায়ন ব্যবস্থার পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার বিকল্প অর্থায়নের চ্যানেল তৈরির জন্য কাজ করছে। পাশাপাশি অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে একটি বাজারভিত্তিক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ব্যবস্থার পরিবর্তন, ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর কঠোর শর্তের কারণে প্রচলিত অর্থায়ন পদ্ধতি আগের মতো কার্যকর থাকছে না।’ এ পরিস্থিতিতে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সক্ষমতা শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন তিনি।
স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের ফলে বাজারে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয় এবং সুদের হার বৃদ্ধি পায় উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এতে বেসরকারি খাত ও শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।’ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সামগ্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার প্রতিটি খাতে শত শত কোটি টাকার বকেয়া বিল উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, যে বাজেট তৈরি করতে সাধারণত ছয় মাস সময় লাগে, সেটি প্রস্তুত করার জন্য বর্তমান সরকার মাত্র দেড় মাস সময় পেয়েছে। তিনি বলেন, আগের সরকারের কাছ থেকে আমরা ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, যার অনেকগুলোই ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প বাতিল বা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আবার যে প্রকল্পগুলোর কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলোর রিটার্ন অনিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও কাজ শেষ করা হচ্ছে।
জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে একটি এডিপি ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি এবং বাস্তবায়নের অবস্থা রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করা যাবে।
বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) ব্যবস্থা থেকে সরে এসে বৈশ্বিক নিয়মের সঙ্গে মিল রেখে আমদানি-রপ্তানির জন্য সরাসরি পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করবে, যা নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়ীদের এলসি খোলা ছাড়াই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করার সুযোগ দেবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতির বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা সমাধান করে টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামী দুই বছরের মধ্যে অর্থনীতি বর্তমান সংকটময় অবস্থা থেকে স্থিতিশীলতার পথে এগোবে। তৃতীয় বছর থেকে পুনরুদ্ধারের সুফল দৃশ্যমান হবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।’

ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)