অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য থ্রি-আর কৌশল বাস্তবায়ন করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী
বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাকে বর্তমান সরকার মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার থ্রি-আর স্ট্র্যাটেজি (রিকাভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সেলারেশন) বাস্তবায়ন করছে। এই কৌশলের আওতায় ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে দেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করা এবং মোট বিনিয়োগকে জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আজ বুধবার (২৪ জুন) সংসদে নেত্রকোনা-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান।
আমির খসরু বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার ব্যবসার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাসমূহ চিহ্নিত করে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা ও ব্যয় কমিয়ে ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ উন্নত করা এবং বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে বিনিয়ন্ত্রণকরণ (ডিরেগুলেশন) প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়ে একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশীয় ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগ উৎসাহিত হয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার বেশ কয়েকটি প্রত্যক্ষ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে- একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাংলাবিজ চালু, ১৯টি সম্ভাবনাময় খাতে এফডিআই আকর্ষণে হিট ম্যাপ প্রকাশ, পটুয়াখালী ও যশোরে নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের কাজ এবং কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, চাঁদপুর ও কুষ্টিয়ায় নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ), প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) এবং ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ)-সহ বিভিন্ন চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আমির খসরু।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক্স, স্টিলজাত পণ্য, প্লাস্টিক ও চামড়াজাত শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানির সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী খাতে কাস্টমস বন্ডেড ও অনুরূপ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আমির খসরু বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগের সহায়ক আর্থিক অবকাঠামো শক্তিশালী করতে সরকার বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুঁজিবাজার, করপোরেট বন্ড মার্কেট, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড, সুকুক এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই সঙ্গে যোগ্য কোম্পানির তালিকাভুক্তি সহজ করা, তথ্য প্রকাশের শর্তাবলী বাস্তবসম্মত করা এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সমন্বিত উদ্যোগ দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)