বিষখালী নদীর ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়ন সংলগ্ন বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমে ট্রলারে করে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয় এবং পরবর্তীতে নদীতীরে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মামুন আল ইসলাম, রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি, কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন এবং ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে.এম. নিলয় পাশাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জিও ব্যাগ ফেলা উদ্বোধন শেষে বিষখালী নদীর ভাঙন পরিস্থিতি, কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এক আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে.এম. নিলয় পাশার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল।
সভাপতির বক্তব্যে নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে.এম. নিলয় পাশা বলেন, বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে বড়ইয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিকভাবে চারটি প্যাকেজের আওতায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নদীর এই অংশে একটি স্থায়ী নদী সংরক্ষণ প্রকল্প (স্কিম) গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত স্থায়ী প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং নদীতীরবর্তী মানুষের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও অবকাঠামো সুরক্ষিত থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, বিষখালী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের পাশাপাশি দ্রুত টেকসই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার কাজ করছে। সাময়িকভাবে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নাঈম হাসান, ঝালকাঠি (কাঁঠালিয়া-রাজাপুর)